সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা
Published 20-02-13
184 Views

সাত – আটটি বাক্যে উত্তর দাও (প্রশ্নের মান- নম্বর)

  1. উনিশ শতকে নারীশিক্ষা বিস্তারে বেথুন সাহেব কী ভূমিকা গ্রহণ করে ছিলেন ?

উঃ – সূচনা :- জন্ম সূত্রে ইঙ্গ ভারতীয়, পেশাগত জীবনে ব্যারিস্টার, পরিষদীয় আইন সচিব ও শিক্ষা সচিব ড্রিংক ওয়াটার বিটন বা বেথুন সাহেব এদেশের পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে একজন অগ্রগণ্য ব্যক্তি । বিশেষত নারীশিক্ষা বিস্তারে তার ভূমিকা অপরিসীম –
(i) বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠা :- দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, মদনমোহন তর্কালঙ্কার এবং সর্বোপরি বিদ্যাসাগর মহাশয়ের সহযোগিতায় 1849 খ্রিস্টাব্দে 7ই মে তিনি নেটিভ ফিমেল স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন । পরে এটি বেথুন স্কুল নামে পরিচিত হয় । তিনি তাঁর সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এই স্কুলের জন্য দান করেন ।
(ii) তিনি নিজ অর্থ ব্যয়ে নারীশিক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন পুস্তিকা ছেপে তা বন্টনের ব্যবস্থা করেন ।
(iii) বাংলার সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের শিক্ষার উৎসাহ দিতে ‘ফিমেল জিভেনাইল সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন । এছাড়া নারীশিক্ষার প্রসারে কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরি ও বঙ্গ ভাষা-অনুবাদক সমাজ গঠনে তাঁর ভূমিকা আছে ।
মূল্যায়ন :- বিটন এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে জন্য দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়ে ছিলেন । 1849 খ্রিস্টাব্দে তিনি বলেছিলেন – “আমি বিশ্বাস করি আজকের দিনটি ( দেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠার দিন) একটি বিপ্লবের সূচনা করতে যাচ্ছে ।”

  1. নীলদর্পণনাটক থেকে উনিশ শতকের বাংলার সমাজের কীরূপ প্রতিফলন পাওয়া যায় ?

উঃ – সূচনা :- সিপাহী বিদ্রোহের অব্যবহিত পরেই 1860 খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটক । নীলচাষ এবং নীলকরদের অত্যাচারে বাংলার সমাজ জীবনে যে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তা এই নাটকে ফুটে উঠেছে ।
(i) নীলদর্পণ নাটক থেকে গ্রামবাংলায় কিভাবে নীলকর সাহেবেরা নীলকুঠি স্থাপন করেছিল তা জানা যায় । বাংলায় প্রথম নীলকর ছিলেন লুই বোনার্ড ।
(ii) নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের কাহিনী । তারা চাষিদের প্রহার করত, হত্যা করত, গরু-বাছুর লুঠ করত, গৃহে ডাকাতি ও অগ্নি সংযোগ করত, জোর করে কুঠিতে আটকে রাখত – এমনকি কী তাদের স্ত্রী-কন্যা কে অপহরণ করত ।
(iii) নীলকররা অগ্রিম অর্থ বা ‘দাদন’ দিয়ে দারিদ্র কৃষকদের নীলচাষ করতে বাধ্য করত । তার চিত্রও জানা যায় ।
(iv) আবার এইসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করেও যে কোনো লাভ হতো না তার সমাজ চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে ।
(v) এই নাটকটি সামাজিক ক্ষেত্রে যে এক আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল তার চিত্র ও জানা যায় । উনিশ শতকের শহুরে শিক্ষিত সমাজের পাশাপাশি ইউরোপের শিক্ষিত সমাজ নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী জানতে পারে । এর ইংরেজি অনুবাদ করেন জেমস লঙের সহযোগিতায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত ।
মূল্যায়ন :- বাংলায় নীল বিদ্রোহের পটভূমি তৈরি করেছিল ‘নীলদর্পণ’ নাটক । সমাজ জীবনে এক আলোড়নের পাশাপাশি ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল । শেষ পর্যন্ত 1868 খ্রিস্টাব্দে (অষ্টম আইন) বা (নীলচুক্তি আইন) দ্বারা নীলচাষ চাষির ইচ্ছাধীন করা হয় ।

  1. হুতোম প্যাঁচার নকশায় কিভাবে কলকাতার সমাজ-সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায় ?

উঃ –  সূচনা :- কালীপ্রসন্ন সিংহের (1840 – 1870 খ্রিস্টাব্দ) রচিত ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সৃষ্টি । হুতোমের নকশায় আছে উনিশ শতক, কলকাতার ‘বাবু কালচার’ ও বাঙালিয়ানা । 1864 খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি হল বাংলা ভাষায় প্রথম সামাজিক ‘ব্যঙ্গ সাহিত্য’ ।

আলোচিত বিষয় সমূহ :- এই গ্রন্থে আছে মূলত আঠেরো শতকের শেষ থেকে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সময়কালের কলকাতার নাগরিক সমাজ জীবনের অন্ধকার দিকগুলির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে –

(i) এখানে প্রকাশিত ‘ছেলে ধরা’, ‘সাত পেয়ে গরু’, প্রভৃতি রচনায় সমসাময়িক কিছু হুজুগের বিবরণ আছে । এতে সমাজের চিত্র নেই ।

(ii) ‘সড়ক থেকে রেলওয়ে’ রচনায় রয়েছে সমাজচিত্র ।

(iii) ‘হটাৎ অবতার’, ‘স্নানযাত্রা’ প্রভৃতি রচনায় রয়েছে ব্যক্তি চরিত্রের শ্লেষাত্মক বর্ণনা ।

(iv) এই বইতে হটাৎ ফুলে ফেঁপে ওঠা কলকাতার ধনী নব্য বাবু সমাজকে তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করে হাসির ছলে তার সমালোচনা করা হয়েছে ।

(v) ‘গণিকা বিলাস’, ‘ভ্রূণহত্যা’, ‘মাদকদ্রব্যের ব্যবহার’, প্রভৃতির পাশাপাশি পূজাপার্বনকে ঘিরে অতি বাড়াবাড়ির এখানে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে ।

মূল্যায়ন :-  এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ হয়েছে । বাংলাভাষা ও সাহিত্যের প্রথম ঐতিহাসিক রামগতি ন্যায়রত্ন ও শিবনাথ শাস্ত্রী (রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গ সমাজ) সমাজের সঠিক বিবরণ তুলে ধরার জন্য এই গ্রন্থের প্রশংসা করেছেন । এই গ্রন্থ হল পুরোনো কলকাতার এক জীবন দলিল ।

  1. ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানে কলকাতা মেডিকেল কলেজের অবদান আলোচনা কর ।

উঃ –  সূচনা :- কোম্পানি বাংলাদেশে পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যায়নের সূচনা ঘটিয়েছিল 1822 খ্রিস্টাব্দে কলিকাতায় ‘স্কুল ফর নেটিভ ডক্টরস’ স্থাপনের মাধ্যমে । পরবর্তীকালে বেন্টিংয়ের আমলে রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের 1লা ফেব্রূয়ারি কলিকাতা মেডিকেল  কলেজের প্রতিষ্ঠা হয় । 20শে ফেব্রূয়ারি পড়াশুনা শুরু হয় । এরজন্য জমিদান করেন মতিলাল শীল এবং প্রথম অধক্ষ্য ডাঃ জোসেফ ব্রামলি ।

উদ্দেশ্য :- সরকারের উদ্দেশ্য ছিল এই কলেজ থেকে সাব অ্যাসিস্টেন্ট, সার্জেন হিসেবে যোগ্যতা অর্জনকারী ছাত্রদের সামরিক ও অসামরিক কেন্দ্রে নিয়োগ করা ।

প্রারম্ভিক সময় :- ডাঃ জোসেফ ব্রামলির নেতৃত্বে 100 জন ছাত্রের মধ্যে 49 জন ছাত্রকে নিয়ে এর পথ চলা শুরু । প্রথমে মুসলিম ছাত্র ছিল না । প্রত্যেক ছাত্র 7 টাকা করে বৃত্তি পেত । মেডিকেল কলেজের প্রথম শিক্ষকগন জোসেফ ব্রামলি, ডাঃ এইচ এইচ গুডভে, ডাঃ উইলিয়াম ব্রুক ও মধুসূদন গুপ্ত (একমাত্র বাঙালি তথা ভারতীয় )।

প্রথম ব্যাচ ও কৃতী ছাত্রগণ :- এই কলেজের প্রথম পাশ করা ছাত্র উমেশচন্দ্র সেন, দ্বারকানাথ গুপ্ত, রাজকৃষ্ণ দেব, প্রমুখরা বিভিন্ন হাসপাতালে কাজে নিযুক্ত হন । 1856 খ্রিস্টাব্দে প্রথম মুসলিম ছাত্র হিসেবে রহিম খান এখন থেকে ডাক্তারি পাশ করেন । মেয়েদের প্রথমে শিক্ষার অনুমতি না থাকলেও পরে 1883 খ্রিস্টাব্দে কাদম্বিনী গাঙ্গুলি (এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক), 1884 খ্রিস্টাব্দে ভার্জিনিয়া মেরি মিত্র ও বিধুমুখী বসু এই কলেজে ভর্তি হন । এছাড়া উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী (কালাজ্বরের ঔষুধ আবিস্কারক), ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়, নারায়ণ রায়, ভূপালচন্দ্র বসু প্রমুখরা এর কৃতী ছাত্র ।

শবব্যবচ্ছেদের সূচনা :- শিক্ষার্থীদের পক্ষে শবব্যবচ্ছেদ অপরিহার্য । কিন্তু রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ এই কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় । শেষ পর্যন্ত ডেভিড হেয়ার, দ্বারকানাথ ঠাকুর, রাধাকান্ত দেব প্রমুখের চেষ্টায় 1836 খ্রিস্টাব্দের 10ই জানুয়ারি প্রথম ভারতীয় মধুসূদন গুপ্ত শবব্যবচ্ছেদ করেন যা মেডিকেল কলেজের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে ।

ছাত্রদের বিলাতে পাঠাবার পরিকল্পনা :- ব্রামলি মেধাবী ছাত্রদের উন্নতমানের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা করলেও তার অকাল প্রয়াণ এই কাজে বাধার সৃষ্টি করে । পরে 1844 খ্রিস্টাব্দে দুজন ও 1845 খ্রিস্টাব্দে চার জন (গোপালচন্দ্র শীল, ভোলানাথ বসু, দ্বারকানাথ বসু, সূর্যকুমার চক্রবর্তী) কে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয় । এরা সকলেই ছিলেন প্রথম বিলেত ফেরত বাঙালি ডাক্তার ।

পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন :- 1845 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে রয়েল কলেজ অফ সার্জেন্টের পাঠ্যক্রম অনুসারে মেডিকেল কলেজের পাঠ্যক্রম সংস্করণ করা হয় । পরবর্তীকালে এই কলেজের অনেকগুলি বিভাগ চালু করা হয় । যেমন- ডেভিড হেয়ার ক্লিনিক, ইডেন হাসপাতাল, গ্রিন ব্লিডিং, ক্যালকাটা স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন ।

মূল্যায়ন :- 2020 সাল পর্যন্ত কলিকাতা মেডিকেল কলেজ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল । বর্তমানে এটি ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্স’ -এর অন্তর্ভুক্ত । এই কলেজেই গবেষণা করে বিজ্ঞানী রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেন । বর্তমানে এই কলেজের নাম বাংলা তথা ভারতবর্ষে বিখ্যাত হয়ে আছে ।

  1. বামাবোধিনী পত্রিকার বিষয়বস্তু আলোচনা কর ।

উঃ –  সূচনা :- উনিশ শতকের সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম ক্ষেত্র ছিল নারীকল্যান । এই কাজে যে সকল পত্র পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘বামাবোধিনী পত্রিকা’ । 1863 খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মনেতা ও সিটি কলেজের অধ্যক্ষ উমেশচন্দ্র দত্ত এই পত্রিকাটি প্রকাশ করেন । ইটা দীর্ঘ 60 বছর চলেছিল । এককথায় বলা যায়, এই পত্রিকার উদ্দেশ্য ছিল মেয়েদের শিক্ষার আলো দেখিয়ে পুরুষতান্ত্রিক কারাগার থেকে বের করে আনা ।

প্রকাশিত বিষয়সমূহ :- প্রথম সংখ্যার একেবারে শীর্ষদেশে লেখা ছিল – “বামাবোধিনীতে ভাষাজ্ঞান, ভূগোল, ইতিহাস, বিজ্ঞান……….., শিশুপালন, গৃহকার্য ও অন্যান্য বিবরণ প্রকাশিত হইবে” –

(i) এই পত্রিকা স্ত্রীশিক্ষা প্রচলনের দাবি করে । তাদেরকে কী কী বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হবে তার ও একটি তালিকা প্রকাশ করে । বামাবোধিনী মনে করত নারীকে শিক্ষিত করে তুললে সমাজ থেকে ব্যাভিচার দূর হবে ।

(ii) এই পত্রিকা বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার যথা – বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, অসমন্য বিবাহ প্রভিতির সমালোচনা করে ও এর কুফলসম্পর্কে সমাজকে সচেতন করে দিয়েছিলো । এই পত্রিকা বাল্যবিবাহের কুফল হিসেবে ক্ষীণবল সন্তানের জন্ম, পড়াশুনায় বাধা, প্রভিতির কথা বলেছিলো । এছাড়া বাল্যবিবাহে পাত্র ও পাত্রী বিবাহের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারে না ।

(iii) এই পত্রিকা স্পষ্ট ঘোষণা করেছিল যে, বার্ধক্য বিবাহ সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক কারন এর ফলে স্বামী স্ত্রীর মানসিক তারতম্য হয় ।

(iv) এই পত্রিকায় নারীদের সাহিত্য রচনায় উৎসাহিত করত । উৎকৃষ্ট লেখিকাদের পুরস্কৃত করা হত ।

(v) বাংলার রাজনৈতিক আন্দোলনের মেয়েদের অংশগ্রহণের খবর, ঠাকুরবাড়ির মেয়েদের কার্যকলাপ, এই পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হত ।

মূল্যায়ন :- এই পত্রিকা প্রথম নারীদের জন্য পৃথক ‘ফোরাস’ এর ব্যবস্থা করে । মানকুমারী বসুর মতো লেখিকাদের আবির্ভাব ঘটায় । এই পত্রিকার প্রভাবে উনিশ শতকের বাংলা ‘ববন্দিনী বাসা মুক্তির যুগ’  -এ পরিণত হয় ।

  1. নব্যবঙ্গ আন্দোলনের ইতিহাস আলোচনা কর ।

উঃ – সূচনা :- উনিশ শতকের বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস -এ হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও -র নাম উল্লেখ যোগ্য । তাঁর নেতৃত্বে কিছু আদর্শবাদী তরুণ ছাত্র হিন্দু ধর্মের প্রতি যাবতীয় শ্রদ্ধাভক্তি হারিয়ে পাশ্চত্যের অন্ধ অনুকরণে এক চরমপন্থী মতাদর্শ প্রচার করতে থাকে । তারুণ্যের তেজে উদীপ্ত এই আন্দোলনের ফলে হিন্দুধর্ম ও সমাজের ভীত কেঁপে ওঠে, একে নব্যবঙ্গ বা ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলন বলা হয় ।

ডিরোজিও ও নব্যবঙ্গ :- এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ডিরোজিও 1909 এক ইঙ্গ পর্তুগিজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । যুক্তিবাদী ও মুক্ত চিন্তার অধিকারী ডিরোজিও ‘ধর্মতলা একাডেমি’ -তে শিক্ষা লাভের পর মাত্র 17 বছর বয়সে হিন্দু কলেজে ইতিহাস ও ইংরেজি বিষয়ের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন । তিনি তার ছাত্রদের ও যুক্তিবাদী হওয়ার পরামর্শ দিতেন । তার চেষ্টায় ভিছাত্ররা লক, বেন্থাম, ,মিল, হিউম, রুশো, টমাস পেন প্রমুখ দার্শনিকের ভাবধারার সঙ্গে পরিচিত হয় । তার অনুগামীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রসিক কৃষ্ণ মল্লিক, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র প্রমুখ । তাঁর ও তাঁর অনুগামীদের হিন্দুধর্ম বিরোধী কার্যকলাপের ফলে তাকে হিন্দু কলেজ থেকে পদচ্যুত করা হয় । 1831 খ্রিস্টাব্দে মাত্র 23 বছর বয়সে তাঁর অকাল প্রয়াণ ঘটে ।

ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনকারীদের কার্যাবলী :- তাঁরা –

(i) হিন্দু সমাজে নানা কুসংস্কার যথা- জাতিভেদ প্রথা, অস্পৃশ্যতা, প্রতিমা পূজা, সতীদাহ প্রথা প্রভৃতি ছিল তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য । তারা নিষিদ্ধ মাংস ভক্ষণ করতেন, গঙ্গাজলের পবিত্রতা মানতেন না । মা কালীকে বলতেন ‘গুড মর্নিং ম্যাডাম’ ।

(ii) সমকালীন যে কোনো বিষয় নিয়ে স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশের জন্য 1827 খ্রিস্টাব্দে তিনি মানিক তলায় ‘একাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন নামে এক বিতর্ক সভা প্রতিষ্ঠা করেন । এর মুখ্যপত্র ছিল ‘এথেনিয়াম’ ।

(iii) 1829 খ্রিস্টাব্দে নারীশিক্ষা, নারীস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোচনার জন্য ‘পার্থেনন’ পত্রিকা প্রকাশ করেন ।

(iv) ইংরেজ শাসনের খারাপ দিকগুলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ ডিরোজিও -র উদ্যোগে প্রকাশিত হয় ‘ক্যালাইডোস্কোপ’ পত্রিকা ।

ত্রুটি :- কিন্তু অল্পকয়েকদিনের মধ্যেই এই আন্দোলন হারিয়ে যায় –

(i) ডিরোজিও -র অকাল প্রয়াণ ।

(ii) শহরকেন্দ্রিক আন্দোলন ।

(iii) শ্রমিক – কৃষক স্বার্থ সম্পর্কে উদাসীনতা ।

(iv) মুসলিম সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা ।

(v) গঠনমূলক কর্মসূচি না থাকা প্রভৃতি কারনে এই আন্দোলন আলোর দিশারী হয়েও হারিয়ে যায় ।

মূল্যায়ন :- এই ধরণের আন্দোলনের দ্বারা এরাই প্রথম হিন্দু সমাজের বুকে প্রবল আঘাত হেনে ছিল । –

(i) স্ত্রী পুরুষের সমান অধিকার ।

(ii) নারীমুক্তি ও নারীশিক্ষা আন্দোলন ।

(iii) বাণিজ্যের অধিকার ।

(iv) সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কার ।

(v) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও ইংরেজ শাসনের কুফল নিয়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের মাধ্যমে ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতিতে তাদের অবদান রেখে গেছেন ।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নের মান-৮  নম্বর)

  1. প্রাচ্য পাশ্চাত্য বিতর্ক কী ? উচ্চশিক্ষার বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা কর৩+৫=৮

উঃ – 1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইন অনুসারে ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভরতীয় শিক্ষাতে এক লক্ষ টাকা ব্যয় করার সিধান্ত নেয় । কিন্তু এই টাকা কোন শিক্ষার জন্য (ইংরেজি না সংস্কৃত) ব্যয় করা হবে তা নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দেয় ।

(i) প্রাচ্যবাদী :– ওয়ারেন হেস্টিংস, উইলসন, হেনরি প্রিন্সেপ, উইলিয়াম জোন্স প্রমুখরা এই টাকা এদেশীয় যথা সংস্কৃত, ফারসি, আরবি শিক্ষার জন্য ব্যয় করার কথা বলেন । তাদের বলা হয় প্রাচ্যবাদী বা ওরিয়েনটেলিস্ট ।

(ii) পাশ্চাত্যবাদী :– অপরদিকে চার্লস গ্রান্ট, ব্যরিংটন মেকলে, ট্রাভেলিয়ান, রামমোহন প্রমুখরা এই টাকা ইংরেজি শিক্ষার জন্য ব্যায় করার কথা বলেন । এদের এই বিতর্ককে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য বিতর্ক বলা হয় ।

অবসান :– এই বিতর্কের অবসান ঘটানোর জন্য ব্রিটিশ সরকার মেকলের নেতৃত্বে ১৮২৩ খ্রিঃ ‘জনশিক্ষা কমিটি’ গঠন করে । এই কমিটি প্রথমে এই টাকা প্রাচ্য শিক্ষাখাতে ব্যয় করার কথা বললেও পরে পরে রামমোহনের প্রচেষ্টা এবং বেন্টিংয়ের সহযোগিতায় ১৮৩৫ খ্রিঃ ‘মেকলে মিনিটস’ -এর মাধ্যমে পাশ্চাত্য  শিক্ষাখাতে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া । এই ভাবে এই সমস্যার সমাধান ঘটে ।

উচ্চশিক্ষা বিস্তারে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো ভূমিকা আলোচনা করো :-

সূচনা :- 1854 খ্রিঃ ‘উডের ডেসপ্যাচ’ এর নির্দেশ অনুসারে 1857 খ্রিঃ ‘ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ বলে 24 শে জানুয়ারি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় । সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার উইলিয়াম জেমস কোলভিল ছিলেন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য এবং লর্ড ক্যানিং ছিলেন প্রথম আচার্য । এটি ছিল এশিয়ার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ।

উদ্দেশ্য :- সূচনা পর্বে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদেশ্য ছিল অধীনস্ত ও অনুমোদিত স্কুল ও কলেজে পাঠরত ছাত্রদের পরীক্ষা গ্রহণ ও সফল ছাত্রদের সার্টিফিকেট দেওয়া । প্রথমে মোট 24টি কলেজ এর অধীনে ছিল ।

প্রথম গ্রাজুয়েট :- 1858 খ্রিঃ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মোট 11 জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে 2 জন উত্তীর্ণ হয় । এরা হলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্ট্যোপাধ্যায় ও যদুনাথ সরকার ।  এর 26 বছর পর 1883 সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দুই মহিলা গ্রাজুয়েট হন কাদম্বিনী গাঙ্গুলি ও চন্দ্রমুখী বসু । এশিয়ার প্রথম ডি লিট ডেনিমাধব বড়ুয়া যিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ।

ভারতীয় উপাচার্জগণ :- 1890 সালে বিচারপতি গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় উপাচার্য হন । পরে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় পরপর চার বার (1906 খ্রিঃ – 1914 খ্রিঃ) এবং পঞ্চমবার (1921 খ্রিঃ – 1923 খ্রিঃ) এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়ে ছিলেন তাঁর আমলে ‘দ্বারভাঙা হল’ -এ গ্রন্থাগার, 1908 খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাপাখানা, 1909 খ্রিস্টাব্দে আইন কলেজ, 1914 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞান কলেজ স্থাপিত হয় ।

বৃত্তি :- শিক্ষার উন্নতির জন্যে অনেকেই অর্থপ্রদানে এগিয়ে এসেছিলেন, প্রথমে ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাইয়ের ব্যাবসায়ী প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ এগিয়ে আসেন পরিবর্তীকালে ঈশান স্কলারশিপ, গ্রিফিত স্কলারশিপ, স্যার আশুতোষ স্বর্ণপদক প্রভৃতি শত শত পুরস্কার ও বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয় ।

বর্তমান শিক্ষাপ্রাঙ্গন :- কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শিক্ষাপ্রাঙ্গনটি বর্তমানে কলেজ স্ট্রিটে অবস্থিত হলেও কলকাতার বিভিন্ন স্থানে এর 14টি ক্যাম্পাস আছে ।

(i) রাসবিহারী শিক্ষাপ্রাঙ্গন যা 1914 সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । এখানে মূলত বিজ্ঞান বিষয়গুলির পড়াশুনা হয় যা রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ নামে পরিচিত ।

(ii) তারকনাথ শিক্ষাপ্রাঙ্গন যাকে বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ বলা হয় । এখানে বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণা করা হয় ।

(iii) আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় শিক্ষাপ্রাঙ্গন যেটি সল্টলেকে অবস্থিত । এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষা দেওয়া হয় ।

(iv) শহিদ ক্ষুদিরাম শিক্ষাপ্রাঙ্গন যেটি আলিপুরে অবস্থিত, এখানে মূলত কলাবিভাগের বিষয়গুলি শিক্ষা দেওয়া হয় ।

(v) ন্যানো বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে 2013 সালে সল্টলেকে ভারতের সর্ববৃহৎ ন্যানো গবেষণা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে ।

মূল্যায়ন :- এটি ভারতবর্ষের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যার সঙ্গে চারজন নোবেল পুরস্কার জয়ী-র সম্পর্ক ছিল (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সি ভি রমন, অমর্ত্য সেন, স্যার রোনাল্ড রস) দেশ বিদেশের বহু পন্ডিতের আগমনে এই বিশ্ববিদ্যালয় ভন্ড হয়েছে, বর্তমানে ভারত তথা এশিয়ার অন্যতম এবং শ্রেষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিরোপা রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ।

  1. নারীমুক্তি আন্দোলনে বিদ্যাসাগরের অবদান কী ছিল ?  

উঃ – সূচনা :- উনিশ শতকে বাংলায় নারীমুক্তি আন্দোলনের ইতিহাসে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক । নারীজাতির মুক্তির জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেন ।

নারীমুক্তি আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর :-

(i) বিধবাবিবাহের পক্ষে :- উনিশ শতকে বাংলাদেশে হিন্দু বিধবাদের অবস্থা ছিল করুন । স্বামীর মৃত্যুর পর তাদের জীবন হয়ে উঠতো দুর্বিষহ । সমাজে তারা ছিল অবহেলিত ও নির্যাতিতা । হিন্দু বিধবা নারীদের দুর্দশা তাঁকে ব্যথিত করে । এদের মুক্তি তথা পুনরায় বিবাহ দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুতি নেন । শুরুকরে শাস্ত্র অধ্যয়ন । বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করে তিনি প্রমান করেন যে, বিধবাবিবাহ শাস্ত্রসম্মত । বিধবাবাহের পক্ষে তিনি জনমত গঠন শুরু করেন । এই জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে সওয়াল করেন । সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে । শেষ পর্যন্ত 1856 খ্রিস্টাব্দে ভারতের বড়লাট লর্ড ডালহৌসি পঞ্চদশ বিধি আরোপ করে হিন্দু সমাজে বিধবাবিবাহ প্রথা আইনসিদ্ধ করেন । বিদ্যাসাগ নিজের পুত্রের সঙ্গে অষ্টাদশী বিধবার বিবাহ দেন । জানা যায় তিনি এইরূপ 60 টি বিধবার পুনর্বিবাহ দেন ।

(ii) বহুবিবাহের বিরুদ্ধে :- সে যুগে হিন্দু কুলিন ব্রাহ্মণরা বহুবিবাহ করতে পারত । তাতে নারীজাতির কষ্টের শেষ ছিল না । বিদ্যাসাগর এই ঘৃণ্য প্রথার বিরুদ্ধে সবর হন এবং এর বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন । 1871 খ্রিস্টাব্দে বহুবিবাহ রহিত হয় উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা লেখেন । পুরুষের বহুবিবাহ বন্ধ করার জন্য তিনি সরকারের দ্বারাস্থ হন । কিন্তু এব্যাপারে সরকারি অনূমোদন মেলেনি ।

(iii) বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে :- সে যুগে হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহের ব্যাপক চলন ছিল । এই বস্তা পচা সামাজিক নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্যাসাগর সবর হন । এর জন্য শুরু করেন নিরলস সংগ্রাম । তিনি সর্বশুভকরী পত্রিকায় বাল্যবিবাহের দোষ শীর্ষক নিবন্ধে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন । এব্যাপারে তিনি সফলও হন । 1860 খ্রিস্টাব্দে সরকার আইন করে মেয়েদের বিবাহের বয়স কমপক্ষে 10 বছর ধার্য করেন ।

(iv) স্ত্রী শিক্ষার প্রসার :- বিদ্যাসাগর অনুধাবন করেন যে, নারী সমাজকে হিন্দু সমাজের নিষ্পেষণ থেকে মুক্ত করতে গেলে তাদের শিক্ষার আলোকে আলোকিত করতে হবে । তা না হলেতাদের মুক্তির উপায় নেই ।  এজন্য স্ত্রী শিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেন । তিনি নিজের খরচায় বাংলাদেশে 35 টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন । এছাড়া প্রতিষ্ঠা করেন স্ত্রীশিক্ষা সম্মিলনী, হিন্দু ফিমেল স্কুল প্রভৃতি । 1849 খ্রিস্টাব্দে নেটিভ ফিমেল স্কুল স্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি বেথুন সাহেব কে সর্বতো ভাবে সাহায্য করেন । শিক্ষাকে সহজ তথা জনমুখী করে তোলার জন্য তিনি অনেকগুলি অনুবাদ সাহিত্য রচনা করেন । এছাড়া বর্ণপরিচয়, কথামালা, বোধোদয় ইত্যাদি পুস্তক লেখেন ।

মূল্যায়ন :- এই ভাবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নিরলস পরিশ্রমে বাংলার অবহেলিত ও নিপীড়িত নারী সমাজ পেয়েছিলো মুক্তির স্বাদ । তাঁর মোক্ষম আঘাতে বাংলার হিন্দু সমাজে ফিরেছিল প্রাণের স্পন্দন । সবক্ষেত্রেই যে তিনি সফল হয়ে ছিলেন তা নয়, তবে তিনি যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তা বলাই বাহুল্য ।

2.8 4 votes
Article Rating
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments