2.1 বায়ুমণ্ডলের ধারণা উপাদান ও স্তর বিন্যাস
Published 20-08-06
382 Views

2.1 বায়ুমণ্ডলের ধারণা উপাদান ও স্তর বিন্যাস

  1. বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমান – 20.946%

বায়ুতে গ্যাসের পরিমাণ :

গ্যাস

সংকেত

পরিমান

নাইট্রোজেন N2 78.084%
আর্গন Ar 0.934%
কার্বন ডাই অক্সাইড Co2 0.033%
নিস্ক্রিয় গ্যাস সমূহ 0.003%
নিয়ন Ne 0.0018%
হিলিয়াম He 0.0005%
ক্রিপ্টন Kr 0.0001%
জেনন Xe 0.0005%
  1. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণকারী গ্যাস : ওজন গ্যাস ।
  2. ওজন গ্যাসের আবিষ্কারক :– জার্মান রসায়নবিদ সি. এফ. স্কনবি ।
  3. বায়ুমণ্ডলের ক্ষুব্ধমণ্ডল :- ট্রপোস্ফিয়ার ।
  4. বায়ুমণ্ডলের শান্তমণ্ডল :– স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ।
  5. বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বতম স্তর :– ম্যাগনেটোস্ফিয়ার ।
  6. বায়ুর উষ্ণতা মাপক যন্ত্র : থার্মোমিটার ।
  7. বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারন :– গ্রীন হাউস গ্যাস বৃদ্ধি ।
  8. এলনিনো শব্দের অর্থ :– শিশুখ্রিস্ট ।
  9. ব্যারোমিটার যন্ত্রের আবিষ্কারক :– টরিসেলি ।
  10. বায়ুপ্রবাহের দিক নির্নায়ক যন্ত্র :– বাতপতাকা ।
  11. বায়ুচাপ পরিমাপক যন্ত্র :– ব্যারোমিটার ।
  12. বায়ুর গতিবেগ মাপক যন্ত্র :– অ্যানিমোমিটার ।
  13. বৃষ্টিপাত মাপক যন্ত্র :– রেনগজ ।
  14. বায়ুর দিক বিক্ষেপকারী বল : কোরিওলিস বল ।
  15. সমান উষ্ণতা বিশিষ্ট রেখা :– সম উষ্ণ রেখা ।
  16. সমান বৃষ্টিপাত যুক্ত রেখা :– সমবর্ষণ রেখা ।
  17. সমান চাপবিশিষ্ট রেখা :– সমপ্রেষ রেখা ।
  18. সমুদ্র বায়ু স্থল বায়ুর বৃহৎ সংস্করণ : মৌসুমি বায়ু ।
  19. ওজন গ্যাসের ঘনত্ব পরিমাপের একক :– ডবসন একক । (DU) (গর্ডন ডবসন)
  20. ওজনস্তর সংরক্ষনের নাম :– মন্ট্রিল প্রটোকল ।
  21. বিশ্ব ওজনস্তর সুরক্ষা দিবস :– 16 সেপ্টেম্বর ।
  22. পৃথিবীর গড় উষ্ণতা :– 15°C
  23. গ্রিন হাউস গ্যাস উৎপাদনে প্রথম :– চিন ।
  24. গ্রিন হাউস গ্যাস বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ :– কিয়োটা প্রোটকল ।
  25. সর্বোচ্চ বায়ুচাপ : 1075 মিলিবার, ইর খুটকস, রাশিয়া, 1493 সাল ।
  26. সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুচাপ :– 1013.25 মিলিবার বা হেক্টো পাস্কাল ।
  27. বিউফোর্ট স্কেল : বায়ুর শক্তির মাত্রা নির্নয়ের স্কেল।
  28. Knot (নট) :বায়ুর গতিবেগের একক হল knot.
    1 Knot = 1.877 Km/hr.
  1. বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র :– হাইগ্রোমিটার ।
    (1783 খ্রিস্টাব্দে হেরেস বেনেডিক্ট ডিসসুর)
  1. বায়ুমণ্ডলের ওজন গ্যাস ঘনীভূত হয় :– স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ।
  2. ট্রপোস্ফিয়ারের প্রতি হাজার মিটার উচ্চতায় উষ্ণতা কমে :– 1°C
  3. হিমাঙ্ক :– নির্দিষ্ট চাপে যে উষ্ণতায় জল ঘনীভূত হয়ে বরফে পরিনত হয়, তাকে হিমাঙ্ক বলে । এর পরিমান 0°C
  4. স্থায়ী গ্যাসীয় উপাদান : যে সমস্ত গ্যাসীয় উপাদান বাতাসের সম অনুপাতে সর্বদা উপস্থিত থাকে, তাকে স্থায়ী গ্যাসীয় উপাদান বলে ।
    যেমন : N2, O2, H2, Ne, Xe, Kr, He.
  1. অস্থায়ী উপাদান : যে সমস্ত গ্যাসীয় উপাদান সময় ও স্থান বিশেষে পরিবর্তিত হয়, তাকে অস্থায়ী উপাদান বলে ।
    যেমন :- জলীয় বাষ্প, CO2 ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস ।
  2. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে ?

উঃ – ভূ-পৃষ্ঠের যে অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরন, অতি সূক্ষ ধূলিকনা ও জলীয় বাষ্প পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে । পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর গায়ে লেগে আছে এবং পৃথিবীর সাথে আবর্তিত হচ্ছে ।

  1. এরোসল কাকে বলে ?

উঃ – ধূলিকনা বা এরোসল হল মরু অঞ্চল বা সমুদ্র তীরের অতি সূক্ষ ধূলোবালি ও লবন কনা, পোড়া কয়লার ছাই, আগ্নেয় গিরির ছাই, ভস্মের মিশ্রন যা বায়ুমন্ডলের নীচের স্তরে ভেসে বেড়ায় ।

  1. গ্রীনহাউস গ্যাসের নামগুলি লেখ

উঃ – বায়ুমণ্ডলের গ্রীনহাউস গ্যাসগুলি হল – CO2, কার্বন মনোক্সাইড ( CO), CH4, নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), CFC, জলীয় বাষ্প (H2O) ইত্যাদি ।

  1. বায়ুমণ্ডলের স্তর বিন্যাস দেখাও

উঃ – বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস –

  1. SPM কী ?

উঃ – SPM এর পুরো অর্থ হল- Sus Pended Particulate Matters, বায়ুতে ভাসমান কঠিন ও তরল সূক্ষ বস্তু কনা যথা – ধূলো, বালি, জলকনাকে SPM বলে ।

  1. ওজন কী ?

উঃ – ইংরেজি Ozone শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Ozo (বিশেষ গন্ধ) থেকে । বায়ুতে অক্সিজেন গ্যাসের তিনটি পরমানুর আইসোটোপ যুক্ত হালকা নীল রঙের উগ্র আঁশটে গন্ধযুক্ত বিষাক্ত গ্যাসকে ওজন বলে । 1840 সালে সুইস রসায়নবিদ ক্রিশ্চিয়ান ফেডরিক স্কোনবি ওজন গ্যাস আবিষ্কার করেন ।

  1. ওজন গহ্বর কী ?

উঃ – বায়ু দূষণের ফলে স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজন গ্যাস ধ্বংস হয়ে ওজন গ্যাসের ঘনত্ব 200 Du -এর কম হলে ওজন স্তর ক্রমশ খুবই পাতলা হয় এবং সেখান থেকে অতিবেগুনি রশ্মি প্রবেশ করে, একে ওজন গহ্বর বলে।

  1. ডবসন একক (Dobson Unit ) কী ?

উঃ – ওজন গ্যাসের ঘনত্ব পরিমাপে ব্রিটিশ পদার্থবিদ গর্ডন ডবসনের নামানুসারে ডবসন একক ( Du ) ব্যাবহৃত হয় ।

  1. অ্যাডভেকশন কী ?

উঃ – ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে অ্যাডভেকশন বলে ।

  1. বায়ুমণ্ডলের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব লেখ ?

উঃ – বায়ুমণ্ডলের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব :-

i) বায়ুমন্ডল আছে বলেই পৃথিবীতে উদ্ভিদ, প্রানী, মানুষ আছে । বায়ুমণ্ডল ছাড়া প্রানের অস্তিত্ব সম্ভব নয় ।

ii) বায়ুমণ্ডল প্রানীকে O2 ও উদ্ভিদকে CO2 দেয় ।

iii) বায়ুমণ্ডল অবলোহিত (IR) রশ্মি ও অতি বেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জীবজগৎকে রক্ষা করে ।

iv) বায়ুমণ্ডল আছে বলে পৃথিবীতে জলচক্র আছে ।

v) বায়ুমণ্ডল উল্কার আঘাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে ।

vi) বায়ুর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দানা শষ্য পোষণ করা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় ।

  1. আয়নোস্ফিয়ারের গুরুত্ব কী ?

উঃ – আয়নোস্ফিয়ারের গুরুত্ব হল

i) উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে উষ্ণতা দ্রুত হারে বাড়ে এবং থার্মোস্ফিয়ারের উর্ধ্বে উষ্ণতা হয় 1200°C এর বেশি ।

ii) বায়ুর ঘনত্ব খুবই কম ।

iii) অতিবেগুনি ও রঞ্জন রশ্মি এই স্তরে শোষিত হয় ।

iv) বস্তুকনা আয়নিত আছে বলেই বেতার তরঙ্গ এই স্তর থেকে প্রতিফলিত হয় ।

v) অরোরা বা মেরুপ্রভা এই স্তরে সৃষ্টি হয় ।

  1. মৌক্তিক মেঘ কী ?

উঃ – শীতকালে আন্টার্কটিকা ঊর্ধ্বাংশে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করে বর্নময় মেঘের সঞ্চার ঘটায় । একেই বলে মৌক্তিক মেঘ ।

  1. নৈশদ্যুতি মেঘ কী ?

উঃ – মেসোস্ফিয়ারে সৃষ্ট হালকা মেঘকে নৈশদ্যুতি মেঘ বলে ।

  1. ভ্যান অ্যালেন বিকিরন বলয় কী ?

উঃ – নিরক্ষীয় অঞ্চলের দুটি ম্যাগনেটোপজ বলয়কে ভ্যান অ্যালেন বিকিরন বলয় বলে ।

  1. সমতাপ অঞ্চল কাকে বলে ?

উঃ – ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বে প্রায় 3 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত অংশে উষ্ণতার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না । উচ্চতা বৃদ্ধি পেলেও উষ্ণতা অপরিবর্তিত থাকে বলেই একে সমতাপ অঞ্চল বলে ।

  1. ওজন স্তর বিন্যাসের কারনগুলি লেখ ?

উঃ – ওজন স্তর প্রাকৃতিক কারনে ও মানুষের নানবিধ কাজের জন্যে ধ্বংস হয়, যেমন-

i) ক্লোরিনের অভাব :- ক্লোরিন ওজন গ্যাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ওজোনকে ধ্বংস করে । তাই মানুষের তৈরি ক্লোরিন যৌগ- CFC ওজোনস্তরের পক্ষে ক্ষতিকর । CFC এর বানিজ্যিক নাম হল ফ্রেয়ন গ্যাস ।

ii) N2 ও SO4 -এর প্রভাব :- জেট বিমান আকাশে নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফারের অক্সাইড ও সালফারের অক্সাইড ত্যাগ করে । এগুলিও ওজোনস্তরের ক্ষতি করে ।

  1. বায়ুর উষ্ণতা বায়ুমন্ডলে আগত সূর্য রশ্মির তাপের তীব্রতার পরিমাপকে বায়ুর উষ্ণতা বা তাপমাত্রা বলে ।
  2. সূর্য রশ্মির তাপীয় ফল বা Insolation – সূর্য থেকে বিকিরিত তাপ শক্তি যে অতি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ ক্ষুদ্র তড়িৎ চুম্বক তরঙ্গ বা আলোক তরঙ্গ (6000°C থেকে 1/200) পৃথিবীতে পৌঁছে ভূপৃষ্ট ও বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে । তাকে সূর্য রশ্মির তাপীয় ফল বা Insolation বলে । এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য < 0.4 মাইক্রোন । সৌর ধ্রুবকের পরিমান 1.94 ক্যালোরি/বর্গকিমি ।
  3. বায়ুমণ্ডলের নিয়ন্ত্রক : স্থান ও ঋতুভেদে Insolation এর পার্থক্য সৃষ্টিতে নিয়ন্ত্রকগুলি হল-
    i) সৌর রশ্মির পতন কোন,
    ii) সৌর বিকিরনের সময়কাল,
    iii) সৌর ধ্রুবক,
    iv) পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে দূরত্ব,
    v)
    বায়ুমন্ডলের স্বচ্ছতা ।
  4. তাপ বাজেট : সূর্য থেকে আগত সৌর বিকিরন ও পৃথিবীতে তার তাপীয় ফলের যে নির্দিষ্ট হিসেব তাকে তাপ বাজেট বলে ।
  5. অ্যালবেডো : সূর্য থেকে আগত 100% Insolation এর মধ্যে যে 34% বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত মেঘ, এরোসল, বায়ুর অনু, বায়ুমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠ দ্বারা বিচ্ছুরিত ও প্রতিফলিত হয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গ রুপে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে না, তাকে পৃথিবীর নিষ্ক্রিয় সৌর তাপ বা অ্যালবেডো বলে ।
  6. কার্যকরী সৌর বিকিরন : সূর্য থেকে আগত 100% Insolation এর মধ্যে যে 66% বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে, তাকে পৃথিবীর কার্যকরী সৌর বিকিরন বলে ।
  7. তাপ সমতা : সারাবছর ধরে প্রতিদিনই Insolation এর পৃথিবীতে এলেও উষ্ণতা ক্রমযৌগিক ভাবে বাড়ে না । দিনের বেলার ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল যে পরিমান (66%) ক্ষুদ্র তরঙ্গের সূর্য রশ্মি দ্বারা উত্তপ্ত হয় । রাতের বেলায় সমপরিমান তাপ বৃহৎ তরঙ্গ রূপে বিকিরন করে মহাশূন্যে ফিরে গিয়ে পৃথিবীর যে গড় উষ্ণতার সাম্যাবস্থা বিরাজ করে, তাকে পৃথিবীর উত্তাপের সমতা বলে ।
  8. বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতিগুলি আলোচনা কর ?

উঃ – বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রধানত তিনটি পদ্ধতি দেখা যায় –

i) বিকিরন :- যে পদ্ধতিতে তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয়, তাকে বিকিরন পদ্ধতি বলে ।

ii) পরিচলন :- সূর্য থেকে আসা তাপে পৃথিবীপৃষ্ঠের গায়ে লেগে থাকা সবচেয়ে নীচের বায়ুস্তর প্রথমে উত্তপ্ত হয় । এই উষ্ণ বায়ু হালকা হয়ে ওপরে ওঠে আর ওপরের শীতল বায়ু ধীরে ধীরে নীচে নামে । আবার এই শীতল বায়ু গরম হয়ে ওপরের দিকে উঠে যায় । এইভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়- একে পরিচলন পদ্ধতি বলে ।

iii) পরিবহন :- যে পদ্ধতিতে দুটি বস্তু পরস্পর সংলগ্ন অবস্থায় থাকলে উষ্ণ বস্তু থেকে শীতল বস্তুতে তাপ সঞ্চালিত হয়, তাকে পরিবহন পদ্ধতি বলে ।

0 0 votes
Article Rating
guest
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Tiyasa Mahata
Tiyasa Mahata
2021-07-09 2:16 pm

সমতা কাকে বলে ।এটা দেবেন

Tiyasa Mahata
Tiyasa Mahata
2021-07-09 2:16 pm

সমতাপ কাকে বলে