আয়নীয় ও সমযোজী বন্ধন
Published 20-02-13
6528 Views
  1. রাসায়নিক বন্ধন কাকে বলে ?

উঃ – রাসায়নিক বন্ধন :-

যোজ্যতা কক্ষে ইলেকট্রন গ্রহণ অথবা যোজ্যতা কক্ষ থেকে ইলেকট্রন বর্জন অথবা ইলেকট্রন জোড় গঠনের মাধ্যমে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পারমাণুগুলি তাদের সর্ববহিস্থ কক্ষে নিকটতম নিষ্ক্রিয় মৌলের পরমাণুর মতো সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে । এর ফলে ওই পরমাণু গুলির মধ্যে যে আকর্ষণ বলের সৃষ্টি হয় তাকে রাসায়নিক বন্ধন বলে ।

  1. তড়িৎ যোজ্যতা কাকে বলে ? ইহার পরিমাপ কী ?

উঃ – তড়িৎ যোজ্যতা :-

নিকটতম নিষ্ক্রিয় মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের চেষ্টায় একটি মৌলের পরমাণুর সর্ববহিস্থ কক্ষ থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্বক আয়ন (ক্যাটায়ন) এবং ওই বর্জিত ইলেকট্রন অন্য একটি মৌলের পরমাণু গ্রহণ করে ঋনাত্বক আয়নে (অ্যানায়ন) পরিণত হয়ে পরস্পর স্থির তড়িৎ আকর্ষণে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করার সমতাকে তড়িৎ যোজ্যতা বলে ।

তড়িৎ যোজ্যতার পরিমাপ :-

তড়িৎযোজী যৌগ গঠনের সময় কোনো তড়িৎ ধনাত্বক মৌল যত সংখ্যক ইলেকট্রন বর্জন করে ক্যাটায়নে পরিণত হয় অথবা কোনো তড়িৎ ঋনাত্বক মৌল যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহণ করে অ্যানায়নে পরিণত হয়, সেই সংখ্যাই হল ওই মৌলের তড়িৎ যোজ্যতার পরিমাপ । যেমন –

ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড (MgCl2) গঠনকালে Mg পরমাণু 2 টি ইলেকট্রন বর্জন করে Mg2+ আয়নে এবং প্রতিটি Cl পরমাণু 1 টি করে ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl আয়নে পরিণত হয় । সুতরাং Mg এর তড়িৎ যোজ্যতা = 2 এবং Cl এর তড়িৎ যোজ্যতা = 1

  1. তড়িৎযোজী যৌগ কাকে বলে ? তড়িৎযোজী বন্ধন কাকে বলে ?

উঃ – তড়িৎযোজী যৌগ/আয়নীয় যৌগ :-

নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের পরমাণুর মতো সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের চেষ্টায় কোনো পরমাণুর যোজন কক্ষ থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্বক অয়ন (ক্যাটায়ন) এবং ঐ বর্জিত ইলেকট্রন অন্য একটি মৌলের পরমাণু গ্রহণ করে ঋনাত্বক আয়নে (অ্যানায়ন) পরিনত হয় । বিপরীত আধান বিশিষ্ট ওই আয়নদ্বয়ের মধ্যে ক্রিয়াশীল স্থির তড়িৎ আকর্ষণের প্রভাবে উৎপন্ন যৌগকে তড়িৎযোজী যৌগ বা আয়নীয় যৌগ বলে ।

উদাঃ – NaCl, CaO, MgCl2

তড়িৎযোজী বন্ধন :-

নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের পরমাণুর মতো সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের চেষ্টায় কোনো পরমাণুর যোজন কক্ষ থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্বক আয়ন (ক্যাটায়ন) এবং ঐ বর্জিত ইলেকট্রন অন্য একটি মৌলের পরমাণু গ্রহণকরে ঋনাত্বক আয়নে (অ্যানায়ন) পরিণত হয় । বিপরীত আধান বিশিষ্ট ওই আধানদ্বয়ের মধ্যে ক্রিয়াশীল স্থির তড়িৎ আকর্ষণের বলের প্রভাবে উৎপন্ন রাসায়নিক বন্ধনকে তড়িৎযোজী বন্ধন বা আয়নীয় বন্ধন বলে ।

  1. তড়িৎযোজী যৌগের ধর্ম বৈশিষ্ট্য লেখ 

উঃ – তড়িৎযোজী যৌগের ধর্ম বৈশিষ্ট্য :-

(i) ভৌত অবস্থা :-

আয়নীয় যৌগগুলি সাধারণত শক্ত, কঠিন ও কেলাসাকার পদার্থ ।

(ii) গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক :-

অ্যানায়ন ও ক্যাটায়নের মধ্যে তীব্র কুলম্বীয় বল ক্রিয়া করায় কেলাস থেকে তাদের পৃথক করতে প্রচুর তাপশক্তির প্রয়োজন । তাই এদের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক খুব বেশি হয় ।

(iii) বন্ধনের অভিমুখ :-

একটি আয়ন বিপরীত আধানের আয়নকে যে কোনো দিক থেকে আকর্ষণ করে তাই আয়নীয় বন্ধনের কোনো অভিমুখ নেই ।

(iv) তড়িৎ পরিবাহিতা :-

কঠিন অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন না করলেও আয়নীয় যৌগগুলি গলিত বা জলে দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে এবং রাসায়নিক ভাবে বিশ্লেষিত হয় ।

(v) দ্রাব্যতা :-

আয়নীয় যৌগগুলি সাধারণত ধ্রুবীয় বা পোলার দ্রাবকে (যেমন -জল) দ্রাব্য কিন্তু অধ্রুবীয় বা নন পোলার দ্রাবকে (যেমন – কেরোসিন, পেট্রোল প্রভৃতি) অদ্রাব্য ।

(vi) বিক্রিয়ার গতিবেগ :-

দ্রবণে আয়নীয় যৌগগুলির বিক্রিয়া দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয় ।

(vii) সমাবয়তা :-

আয়নীয় যৌগগুলির সমাবয়তা ধর্ম প্রদর্শন করে না ।

(viii) সমাকৃতিত্ব :-

বিভিন্ন সংকেতের আয়নীয় যৌগগুলির একই কেলাস গঠন তথা জ্যামিতিক আকার একই হতে পারে । একেই সমকৃতিত্ব ধর্ম বলে । এবং এরূপ যৌগগুলিকে সমাকৃতি যৌগ বলে ।

যেমন, ZnSo4, 7H2O (White Vitriol) এবং FeSo4, 7H2O (Green Vitriol)

  1. আয়নীয় যৌগের অয়নের উপস্থিতির সাহায্যে নিম্নলিখিত ধর্মগুলির ব্যাখ্যা করো 
    (i) ভৌত অবস্থা ও কাঠিন্যতা
    (ii) উচ্চ গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক
    (iii) বিভিন্ন দ্রাবকে দ্রাব্যতা
    (iv) তড়িৎ পরিবাহিতা

উঃ – (i) ভৌত অবস্থা কাঠিন্যতা :-

আয়নীয় যৌগগুলি সাধারণ অবস্থায় কঠিন ও কেলাসাকার হয় । এই ধরনের যৌগে প্রতিটি আয়ন তার চারিদিকে নির্দিষ্ট সংখ্যাক বিপরীত তড়িদগ্রস্ত আয়নদ্বারা ঘেরা থাকে । আয়নগুলি ত্রিমাত্রিক ভাবে বিন্যস্ত হয়ে বিশেষ জ্যামিতিক আকার বিশিষ্ট কঠিন কেলাস গঠন করে । বিপরীত তড়িদগ্রস্ত আয়নগুলি তীব্র তড়িৎ আকর্ষণ বল দ্বারা পরস্পরের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে এবং এই আকর্ষণ বল সমগ্র কেলাসের ওপর ছড়িয়ে পড়ে । তাই আয়নীয় যৌগগুলির কাঠিন্য বেশি হয় । বাইরে থেকে বল প্রয়োগ করলে কেলাসস্থিত সমধর্মী আয়নগুলি কাছাকাছি চলে আসে ও এদের মধ্যে বিকর্ষণের ফলে কেলাস ভেঙে যায় । ফলে ভঙ্গুরতা দেখা যায় ।

(ii) উচ্চ গলনাঙ্ক স্ফুটনাঙ্ক :-

আয়নীয় যৌগের কেলাসে অসংখ্য ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন উপস্থিত থাকে । এই বিপরীত তড়িদধর্মী আয়ন সমূহের মধ্যে তীব্র স্থির তাড়িতিক কুলম্বীয় আকর্ষণ বল ক্রিয়া করে বলে আয়নীয় যৌগের কেলাস ঘনসংঘবদ্ধ হয় । ফলে আয়নীয় যৌগের কেলাস ঘনসংঘবদ্ধ হয়। ফলে আয়নীয় যৌগের কেলাস থেকে আয়ন গুলিকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য প্রচুর তাপশক্তির প্রয়োজন হয় । এই কারণে আয়নীয় যৌগের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি হয় ।

(iii) বিভিন্ন দ্রাবকে দ্রাবতা :-

ধ্রুবীয় দ্রাবকের (যেমন – জল ) অণুগুলি দ্বিমেরু বিশিষ্ট আয়নীয় যৌগগুলি কোনো ধ্রুবীয় দ্রাবকের সংস্পর্শে এলে দ্রাবক অনুর ধনাত্বক প্রান্ত আয়নীয় কেলাসের অ্যানায়ন গুলিকে এবং ঋনাত্বক প্রান্তগুলি আয়নীয় কেলাসের ক্যাটায়ন গুলিকে আকৃষ্ট করে । ফলে কেলাস মধ্যস্থ ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের মধ্যে স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বল শিথিল হয় এবং কেলাস গঠন ভেঙে গিয়ে ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নগুলি পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দূরে সরে যায় । এইভাবে আয়নীয় যৌগগুলি ধ্রুবীয় দ্রাবকের অনু দ্বারা পরিবেষ্টিত হয় বলে এরা ধ্রুবীয় দ্রাবকে দ্রাব্য হয় । কিন্তু অধ্রুবীয় দ্রাবকেরা (যেমন – অ্যালকোহল, বেঞ্জিন) আয়নীয় যৌগ থেকে উপাদান আয়নগুলিকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না । ফলে, যৌগগুলি দ্রাবক দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে দ্রবীভূত হতে পারে না । এই কারণে আয়নীয় যৌগগুলি জল বা অযোগ্য ধ্রুবীয় দ্রাবকে দ্রাব্য হলেও অধ্রুবীয় দ্রাবকে অদ্রাব্য হয় ।

(iv) তড়িৎ পরিবাহিতা :-

কঠিন অবস্থায় আয়নীয় যৌগগুলি তড়িৎ পরিবহন করে না । কারণ কঠিন অবস্থায় আয়নীয় যৌগ কেলাসে ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নসমূহ তীব্র স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বল দ্বারা দৃঢ় ভাবে আবদ্ধ থাকে । কিন্তু গলিত বা জলে দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নীয় যৌগের মধ্যে যে অতিরিক্ত শক্তি (তাপ) থাকে তার দ্বারা ওর উপাদান আয়নে বিশ্লিষ্ট হয় । এর ফলে আয়নীয় যৌগ গলিত বা জলে দ্রবীভূত অবস্থায় এই উপাদান আয়নগুলির মাধ্যমে তড়িৎ পরিবহন করতে পারে ।

  1. আয়নীয় বন্ধনকে প্রকৃত বন্ধন বলা হয় কেন ?

উঃ – তড়িৎ যোজী যৌগ গঠনে অংশগ্রহণকারী পরমাণু দুটির ইলেকট্রন আদান প্রদানের মাধ্যমে উৎপন্ন ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বলের প্রভাবে পরস্পর আবদ্ধ থাকে আয়নগুলির মধ্যে কোনো ইলেকট্রন জোড় থাকে না এবং স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বল সবদিকে সমানভাবে ক্রিয়াশীল থাকায় এর কোনো নির্দিষ্ট অভিমুখ থাকে না । এই কারণে তড়িৎযোজী বন্ধনকে প্রকৃত বন্ধন বলা যায় না ।

  1. আয়নীয় যৌগ অধ্রুবীয় দ্রাবকে দ্রবীভূত হয় না কেন ?

উঃ – 5 নং প্রশ্নের মত (iii)

  1. উদাহরণ সহ আয়নীয় বন্ধনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী কোসেল –এর প্রস্তাবনাগুলি সংক্ষেপে লেখো 

উঃ – কোসেল –এর প্রস্তাবনা :-

1916 খ্রিস্টাব্দে আয়নীয় বন্ধন সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন বিজ্ঞানী কোসেল । তার মতে –

(i) কোনো তড়িৎ ধনাত্বক মৌলের সঙ্গে কোনো তড়িৎ ঋনাত্বক মৌলের রাসায়নিক সংযোগ কালে তড়িৎ ধনাত্বক মৌলটির এক বা একাধিক পরমাণু এক বা একাধিক  ইলেকট্রন বর্জন করে ক্যাটায়নে পরিণত হয় ।

(ii) ওই বর্জিত ইলেকট্রন বা ইলেকট্রনগুলি তড়িৎ ঋনাত্বক মৌলটির এক বা একাধিক পরমাণু গ্রহণ করে অ্যানায়নে পরিণত হয় ।

(iii) এর ফলে উৎপন্ন ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন উভয়েই নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে ।

(iv) এইভাবে উৎপন্ন ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নগুলির মধ্যে স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বলের প্রভাবে আয়নীয় যৌগের কেলাস গঠিত হয় এবং পরমাণুগুলি আয়নে পরিণত হয়ে রাসায়নিক ভাবে যুক্ত হওয়ায় ক্ষমতাকে তড়িৎ যোজ্যতা বলে ।

  1. নিম্নলিখিত যৌগগুলির মধ্যস্থ আয়নীয় বন্ধন গঠন চিত্র সংক্ষেপে বর্ণনা কর 
    (i) LiH, (ii) CaO, (iii) MgCl2(iv) NaF

উঃ – (i) LiH :-

লিথিয়াম হাইড্রাইড (LiH) একটি আয়নীয় যৌগ । Li এর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2) L (1) এবং H এর ইলেকট্রন বিন্যাস K (1) । Li পরমাণু তার সর্ববহিস্থ কক্ষের 1 টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Li+ ক্যাটায়নে পরিণত হয় ও নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় মৌল He -এর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2) লাভ করে । অন্য দিকে হাইড্রোজেন পরমাণু ওই বর্জিত ইলেকট্রন গ্রহণ করে H– অ্যানায়নে পরিণত হয় ও নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় মৌল He এর ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে । এরপর বিপরীত তড়িৎধর্মী Li+ ও Hস্থির তাড়িতিক আকর্ষণ বলের মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত হয়ে LiH যৌগ গঠন করে ।

(ii) CaO :-

ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) একটি তড়িৎযোজী যৌগ । ক্যালসিয়াম পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2), L (8), M (8), N (2) এবং অক্সিজেন পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস হল K (2) L (6) । Ca পরমাণুটি তার সর্ববহিস্থ কক্ষের 2 টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Ca2+ ক্যাটায়নে পরিণত হয় ও নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় মৌল Ar এর ইলেকট্রন বিন্যাস (2, 8, 8) লাভ করে ।

আবার অক্সিজেন পরমাণু ওই 2 টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে O2- অ্যানায়নে পরিণত হয়ে নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়নের ইলেকট্রন কাঠামো লাভ করে সুস্থিত হয় । Ca2+ ও O2- আয়ন স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বল দ্বারা যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) অনু গঠন করে । অর্থাৎ ক্যালসিয়াম পরমাণু ও অক্সিজেন পরমাণু পরস্পর তড়িৎযোজী বন্ধন দ্বারা যুক্ত হয় ।

(iii) MgCl2 :-

ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড তড়িৎযোজী যৌগ । ম্যাগনেশিয়াম পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2) L (8) M (2) এবং ক্লোরিন পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2) L (8) M (7) । Mg পরমাণুটি তার সর্ববহিস্থ কক্ষের 2 টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Mg2+ ক্যাটায়নে পরিণত হয় এবং নিকটবর্তী নিস্ক্রিয় মৌল Ne -এর ইলেকট্রন বিন্যাস (2, 8) লাভ করে । অন্যদিকে 2 টি Cl পরমাণু প্রতিটি Mg দ্বারা বর্জিত দুটি ইলেকট্রনের একটি করে Cl গ্রহণ করে অ্যানায়নে পরিণত হয় ও নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় মৌল Ar এর ইলেকট্রন বিন্যাস (2, 8, 8) লাভ করে । এর পর একটি Mg2+ ও দুটি Cl–  আয়ন স্থির তাড়িতিক আকর্ষণ বলের মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত হয়ে আয়নীয় যৌগ MgCl2গঠন করে ।

(iv) NaF :-

সোডিয়াম ফ্লুরাইড (NaF) একটি আয়নীয় যৌগ Na -এর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2) L (8) M (1) এবং F এর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2) L (7) । Na পরমাণু তার সর্ববহিস্থ কক্ষের 1 টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Na+ ক্যাটায়নে পরিণত হয় ও নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় মৌল Ne এর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2) L (8) লাভ করে । অন্যদিকে ফ্লুওরিন পরমাণু ওই বর্জিত ইলেকট্রন গ্রহণ করে F অ্যানায়নে পরিণত হয় ও নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় মৌল Ne এর ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে । এরপর বিপরীত তড়িৎধর্মী Na+ ও Cl স্থির তাড়িতিক আকর্ষণ বলের মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত হয়ে আয়নীয় যৌগ NaF গঠন করে ।

একইভাবে করতে হবে ।

  1. কঠিন NaCl –এর আয়নগুলির পারস্পরিক অবস্থান রেখা চিত্রের সাহায্যে উপস্থাপন কর 
    বা,
    NaCl
    এর কেলাস জালক গঠন চিত্রসহ বর্ণনা কর 

উঃ – কঠিন সোডিয়াম ক্লোরাইড কেলাসের গঠনে অসংখ্য Na+ ও Cl আয়ন ত্রিমাত্রিক তলে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে প্রতিটি সোডিয়াম আয়ন (Na+)নিকটতম দূরত্বে অবস্থিত 6 টি ক্লোরাইড আয়ন (Cl) দ্বারা এবং প্রতিটি ক্লোরাইড আয়ন (Cl) সমদূরত্বে সমান ভাবে অবস্থিত 6 টি Na+ আয়ন দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে । NaCl -এ Na+ ও Cl এর  সংখ্যা সমান । এরূপ বিন্যাসের ফলে উৎপন্ন NaCl কেলাসের আকার অষ্টতলকীয় হয় । একটি সুস্থিত ত্রিমাত্রিক জালকাকার গঠন উৎপন্ন হওয়ার জন্যই আয়নীয় যৌগ গঠিত হওয়া সম্ভবপর হয় কারণ আয়নীয় যৌগের ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন গুলি এমন কতকগুলি নিয়মিত সুষম জ্যামিতিক আকৃতিতে বিন্যস্ত থাকে যাতে সদৃশ আধান বিশিষ্ট আয়নের মধ্যে ক্রিয়াশীল কুলম্বীয় বিকর্ষণ বল এবং আয়নগুলি বহিস্থ কক্ষের ইলেকট্রন গুলির মধ্যে ক্রিয়াশীল বিকর্ষণ বল সর্বনিম্ন হয় ।

অষ্টতলকীয় NaCl কেলাসে প্রতিটি আয়ন একটি অষ্টতলকের কেন্দ্রে এবং বিপরীত আধান যুক্ত আয়নগুলি ওই অষ্টতলকের এক একটি শীর্ষ বিন্দুতে অবস্থান করে । এই অষ্টতলকীয় গঠনটি পুনরাবৃত্ত হয়ে NaCl এর বিশাল ত্রিমাত্রিক ঘনকাকার কেলাস জালক গঠিত হয় । অর্থাৎ NaCl এ কোনো পৃথক একক অনুর অস্তিত্ব নেই । NaCl এর কেলাস (NaCl)n লেখা উচিত । n এর মান কেলাসের আকারের ওপর নির্ভর করে ।

nNa+ + nCl = (Na+ Cl)n বা (NaCl)n

  • অনুরূপ প্রশ্ন
    সোডিয়াম ক্লোরাইডের সংকেত (NaCl)n লেখা উচিত, NaCl নয় ব্যাখ্যা কর ।
  1. সংকেত ভর বা সংকেত ওজোন বলতে কী বোঝায় ? সংকেত ভর কোন প্রকার যৌগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য 

উঃ – সংকেত ভর বা সংকেত ওজোন :-

কোনো যৌগকে যে সংকেতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় । সেই সংকেতে উপস্থিত সমস্ত পরমাণু গুলির পারমাণবিক ভরের সমষ্টিকেই ওই সংশ্লিষ্ট যৌগটির সংকেত ভর বা সংকেত ওজোন বলে ।

যেমন – সোডিয়াম ক্লোরাইডের (NaCl) সংকেত ভর 23+35.5 = 58.5

আয়নীয় যৌগের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন অনুর কোনো অস্তিত্ব না থাকায় আণবিক ভরের পরিবর্তে সংকেত ভর বেশি প্রযোজ্য । সমযোজী যৌগে অনুর অস্তিত্ব আছে । তাই এক্ষেত্রে আণবিক ভর ও সংকেত ভরের কোনো পার্থক্য নেই ।

  1. সমযোজী বন্ধন সমযোজী যৌগ সমযোজ্যতা কাকে বলে ?

উঃ – সমযোজ্যতা :-

নিকটতম নিষ্ক্রিয় মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের চেষ্টায় দুই বা ততোধিক পরমাণু তাদের সর্ববহিস্থ কক্ষ থেকে সমসংখ্যক ইলেকট্রন সমভাবে ব্যবহার করে এক বা একাধিক ইলেকট্রন জোড় গঠন করে । পরমাণু দুটির এই ইলেকট্রন জোড়কে সমভাবে ব্যবহার করে রাসায়নিক ভাবে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করার ক্ষমতাকেই সমযোজ্যতা বলে ।

সমযোজী বন্ধন :-

নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের জন্য দুই বা ততোধিক পরমাণু (একই বা ভিন্ন মৌলের) পরস্পরের মধ্যে এক বা একাধিক ইলেকট্রন জোড় সমভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে যে বন্ধন গঠন করে তাকে সমযোজী বন্ধন বলে ।

সমযোজী যৌগ :-

নিকটতম নিস্ক্রিয় গ্যাসের ন্যায় সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের চেষ্টায় একই বা ভিন্ন মৌলের পরমাণুগুলি তাদের সর্ববহিস্থ কক্ষের এক বা একাধিক ইলেকট্রন জোড় সমভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে পরমাণুগুলির যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে সমযোজ্যতা বলে । এইভাবে গঠিত যৌগকে সমযোজী যৌগ বলে ।

  1. সমযোজী বন্ধন কয় প্রকার কী কী ? প্রত্যক প্রকার সমযোজী বন্ধনের উদাহরণ সহ সংজ্ঞা দাও 

উঃ – সমযোজী বন্ধন তিন প্রকার –

(i) সমযোজী এক বন্ধন

(ii) সমযোজী দ্বিবন্ধন

(iii) সমযোজী ত্রিবন্ধন

(i) সমযোজী একবন্ধন :-
যে সমযোজী বন্ধনে দুটি পরমাণু একটি ইলেকট্রন জোড় সমভাবে ব্যবহার করে একটি মাত্র বন্ধন গঠন করে তাকে সমযোজী একবন্ধন বলে ।

যেমন – H2 অনু (H – H)

Cl2 অনু (Cl – Cl)

(ii) সমযোজী দ্বিবন্ধন :-
যে সমযোজী বন্ধনে দুটি পরমাণু দুটি ইলেকট্রন জোড় সমভাবে ব্যবহার করে দুটি বন্ধনের সৃষ্টি করে তাকে সমযোজী দ্বিবন্ধন বলে ।

যেমন – অক্সিজেন, ইথিলিন ।

(iii) সমযোজী ত্রিবন্ধন :-
যে সমযোজী বন্ধনে দুটি পরমাণু 3 টি ইলেকট্রন জোড় সমভাবে ব্যবহার করে তিনটি বন্ধনের সৃষ্টি করে তাকে সমযোজী ত্রিবন্ধন বলে ।

যেমন – অ্যাসিটিলিন (C2H2)

  1. সমযোজী যৌগের বৈশিষ্ট্য লেখ 

উঃ – সমযোজী যৌগের বৈশিষ্ট্য :-

(i) ভৌত অবস্থা :-

সমযোজী যৌগগুলি সাধারণত একক অনুরূপে অবস্থান করে । সমযোজী যৌগের অণুগুলি পরস্পর অতি দুর্বল আন্তরানবিক আকর্ষণ বল দ্বারা আবদ্ধ থাকে বলে বেশিরভাগ সমযোজী যৌগ সাধারণ অবস্থায় তরল বা গ্যাসীয় হয় । কঠিন হলে সাধারণত নরম ও উদবায়ী প্রকৃতির হয় ।

(ii) তড়িৎ পরিবাহিতা :-

সমযোজী যৌগে আয়ন বা যুক্ত ইলেকট্রন না থাকায় সমযোজী যৌগ তড়িৎ পরিবহন করে না ।

(iii) গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক :-

সমযোজী যৌগের অণুগুলির মধ্যে ক্রিয়াশীল আন্তরানবিক আকর্ষণ বল দুর্বল হওয়ায় অণুগুলিকে বিচ্ছিন্ন করতে অনেক কম তাপশক্তির প্রয়োজন হয়, সেজন্য সমযোজী যৌগগুলি সাধারণত নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট হয় ।

(iv) দ্রাব্যতা :-

সমযোজী যৌগ সাধারণত ধ্রুবীয় দ্রাবকে আদ্রাব্য কিন্তু অধ্রুবীয় দ্রাবকে দ্রাব্য ।

ব্যতিক্রম – HCl সমযোজী হলেও ধ্রুবীয় দ্রাবক জলে দ্রবীভূত হয় ।

(v) বিক্রিয়ার গতি :-

সমযোজী যৌগের বিক্রিয়াগুলি সাধারণত ধীর গতিতে ঘটে ।

(vi) বন্ধনের অভিমুখ ও অনুর অস্তিত্ব :-

সমযোজী বন্ধনের নির্দিষ্ট অভিমুখ থাকায় সমযোজী যৌগ অনুর পৃথক অস্তিত্ব রয়েছে এবং অণুগুলির সুনির্দিষ্ট জ্যামিতিক গঠন থাকে ।

(vii) সমাবয়বতা (Isomerism) :-

সমযোজী যৌগে প্রায়ই সমাবয়বতা ধর্ম দেখা যায় ।

  1. জি এন লুইস কর্তৃক প্রস্তাবিত সমযোজী বন্ধনের মডেলটি উপস্থাপন কর 

উঃ – 1916 খ্রিস্টাব্দে জি এন লুইস কর্তৃক প্রস্তাবিত ইলেকট্রনীয় তত্বানুযায়ী –

(i) একই মৌলের দুটি পরমাণু বা পৃথক মৌলের দুটি পরমাণু তাদের সর্ববহিস্থ কক্ষের অযুগ্ম ইলেকট্রনগুলিকে ব্যবহার করে ইলেকট্রন জোড় গঠন করে ।

(ii) উভয় পরমাণুই ওই ইলেকট্রন জোড় বা জোড়গুলিকে সমানভাবে ব্যবহার করে তাদের যোজ্যতা কক্ষ 8 টি (H ও He এর ক্ষেত্রে 2 টি) ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ করে ।

(iii) ইলেকট্রন জোড় গঠনকারী অযুগ্ম ইলেকট্রন গুলির ঘূর্ণন পরস্পর বিপরীতমুখী হয় ।

(iv) এই ইলেকট্রন জোড় দুটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস দ্বারা একই সঙ্গে ব্যবহৃত হয় ও এর ফলে সমযোজী বন্ধন সৃষ্টি হয়।

  1. লুইস ডট গঠন বলতে কি বোঝ ?

উঃ – লুইস ডট গঠন :-

বিজ্ঞানী লুইসের সমযোজী বন্ধনের ধারণানুযায়ী যোজ্যতা কক্ষের ইলেকট্রনগুলি বিন্দু (ডট) দ্বারা চিহ্নিত করে পরমাণু দ্বয়ের মধ্যে 1 টি সমযোজী বন্ধনকে একজোড়া ডট দ্বারা নির্দেশিত করে সমযোজী যৌগের গঠন প্রকাশ করার জন্য যে চিত্র অঙ্কন করা হয় তাকে লুইস ডট গঠন বলে ।

  1. নিম্নলিখিত যৌগ গুলির লুইস ডট গঠন অঙ্কন কর
    (i) H2 (ii) F2 (iii) HCl (iv) HF (v) H2O (vi) NH3 (vii) CH4 (viii) N2 (ix) C2H2 (x) CO2 (xi) C2H4 (xii) O2

(i) H2 অনুর লুইস ডট গঠন :-

দুটি H পরমাণুর সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে রাসায়নিক ভাবে মিলিত হয়ে হাইড্রোজেন অনু (H2) গঠন করে । হাইড্রোজেন পরমাণুর K কক্ষে 1 টি মাত্র ইলেকট্রন থাকে । দুটি H পরমাণুর প্রত্যেকটির 1 টি করে ইলেকট্রন মিলিত হয়ে একটি ইলেকট্রন জোড় গঠন করে এবং উভয় পরমাণুই এই ইলেকট্রন জোড় সমভাবে ব্যবহার করে । এর ফলে উভয় পরমাণুই নিকটতম নিষ্ক্রিয় মৌল হিলিয়াম পরমাণুর মতো সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে । এভাবে দুটি H পরমাণু সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সমযোজী হাইড্রোজেন অনু গঠন করে ।

(ii) F2 –এর লুইস ডট গঠন :-

দুটি F পরমাণু সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে রাসায়নিক মিলিত হয়ে F2 অনু গঠন করে । F পরমাণুর K কক্ষে 2 টি L কক্ষে 7 টি ইলেকট্রন থাকে । F2 অনু গঠনকালে দুটি F পরমাণুর প্রত্যেকটির যোজ্যতা কক্ষ থেকে 1 টি করে ইলেকট্রন এসে একটি ইলেকট্রন জোড় গঠন করে এবং উভয় পরমাণুই এই ইলেকট্রন জোড় সমভাবে ব্যবহার করে । এর ফলে, উভয় পরমাণুই নিকটতম নিষ্ক্রিয় মৌল নিয়ন (Ne) পরমাণুর মতো সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস (2, 8) অর্জন করে । এইভাবে দুটি F পরমাণু সমযোজী বন্ধনে যুক্ত হয়ে F2 অনু গঠন করে ।

(iii) HCl –এর লুইস ডট গঠন :-

একটি হাইড্রোজেন ও একটি ক্লোরিন পরমাণু, সমযোজী বন্ধন দ্বারা রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে HCl অনুর সৃষ্টি করে । H পরমাণুর যোজ্যতা কক্ষে অর্থাৎ K কক্ষে 1 টি ইলেকট্রন এবং Cl পরমাণুর যোজ্যতা কক্ষে অর্থাৎ M কক্ষে 7 টি ইলেকট্রন থাকে । রাসায়নিক বন্ধন গঠনের সময় H পরমাণুর 1 টি ইলেকট্রন ও Cl পরমাণুর M কক্ষের 1 টি ইলেকট্রন মিলিত হয়ে 1 টি ইলেকট্রন জোড় গঠন করে । উভয় পরমাণুর দ্বারাই ওই ইলেকট্রন জোড় সমভাবে ব্যবহৃত হয় ।

এর ফলে H পরমাণু, He পরমাণুর মতো ও Cl পরমাণু, Ar পরমাণুর মতো সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে । এইভাবে 1 টি H পরমাণু ও 1 টি Cl পরমাণু সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে HCl অনু গঠন করে ।

(iv) HF অনুর লুইস ডট গঠন :-

HCl এর মতো –

(v) H2O অনুর লুইস ডট গঠন :-

H2O অনু গঠনের সময় 1 টি O পরমাণুর (ইলেকট্রন বিন্যাস : 2, 6) যোজ্যতা কক্ষের 2 টি ইলেকট্রন পৃথকভাবে দুটি H পরমাণুর (ইলেকট্রন বিন্যাস : 1) প্রত্যেকের 1 টি ইলেকট্রনের সঙ্গে মিলে 2 টি পৃথক ইলেকট্রন জোড় গঠিত হয় । প্রত্যেকটি ইলেকট্রন জোড়কে O পরমাণু ও প্রত্যেক H পরমাণু সমভাবে ব্যবহার করে । ফলে O পরমাণু ও H পরমাণু যথাক্রমে Ne ও He -এর সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে এবং H2O অনু গঠন করে ।

এক্ষেত্রে O পরমাণুর যোজ্যতা কক্ষে 2 জোড়া নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় থাকে ও বন্ধন গঠনে অংশ নেয় না ।

(vi) NH3 অনুর লুইস ডট গঠন :-

NH3 অনু গঠনের সময় N পরমাণুর (ইলেকট্রন বিন্যাস : 2, 5) বহিস্থ কক্ষের 3 টি ইলেকট্রন, 3 টি H পরমাণুর (ইলেকট্রন বিন্যাস : 1) 3 টি ইলেক্ট্রনের সঙ্গে পৃথকভেবে 3 টি পৃথক ইলেকট্রন জোড় গঠন করে । প্রত্যেকটি ইলেকট্রন জোড়কে N পরমাণু ও প্রত্যেক H পরমাণু সমভাবে ব্যবহার করে । ফলে N পরমাণুটি Ne পরমাণুর মতো এবং H পরমাণুগুলি He পরমাণুর মতো সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে ।

এক্ষেত্রে N পরমাণুর অন্তিম কক্ষের একজোড়া ইলেকট্রন নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড়রূপে অবস্থান করে ।

(vii) CH4 অনুর লুইস ডট গঠন :-

মিথেন অনু গঠনের সময় 1 টি C পরমাণুর (ইলেকট্রন বিন্যাস : 2, 4) বহিঃস্থ কক্ষের 4 টি ইলেকট্রন 4 টি H পরমাণুর (ইলেকট্রন বিন্যাস : 1) প্রতিটির 1 টি ইলেকট্রনের সাথে পৃথকভাবে 4 টি ইলেকট্রন জোড় গঠন করে । প্রত্যেকটি ইলেকট্রন জোড়কে C পরমাণু ও প্রত্যেক H পরমাণু সমভাবে ব্যবহার করে । ফলে C পরমাণুটি Ne পরমাণুর মতো এবং H পররমাণুটি He পরমাণুর মতো সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে । ফলে 4 টি C – H সমযোজী বন্ধন গঠিত হয় ও CH4 অনুর সৃষ্টি হয় ।

(viii) N2 অনুর লুইস ডট গঠন :-

2 টি N পরমাণুর (ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 5) সংযোগ N2 অনু গঠনের সময় একটি N পরমাণুর বহিস্থ কক্ষের 3 টি ইলেকট্রন অপর N পরমাণুর বহিস্থ কক্ষের 3 টি ইলেকট্রন সাথে তিনটি ইলেকট্রন জোড় গঠন করে । এর ফলে প্রতিটি N পরমাণু নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় মৌল নিয়নের অনুরূপ ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে সুস্থিত হয় । দুটি N পরমাণুর মাঝে 3 টি সমযোজী বন্ধন গঠিত হয়ে N2 অনু উৎপন্ন হয় । এক্ষেত্রে প্রতিটি N পরমাণুর বহিস্থ কক্ষের এক জোড়া ইলেকট্রন নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড়রূপে অবস্থান করে ।

(ix) C2H2 অনুর লুইস ডট গঠন :-

দুটি C পরমাণু (ইলেকট্রন বিন্যাস: 2, 4) ও 2 টি H পরমাণুর (ইলেকট্রন বিন্যাস : 1) সংযোগে অ্যাসিটিলিন (C2H2) অনু গঠিত হয় । এক্ষেত্রে 2 টি C পরমানু তাদের বহিস্থ কক্ষের 3 টি করে ইলেকট্রন দ্বারা 3 টি ইলেকট্রন জোড় গঠনের মাধ্যমে কার্বন – কার্বন ত্রি – বন্ধন (C ≡ C) সৃষ্টি করে । প্রতিটি C পরমাণু তাদের বহিস্থ কক্ষের অবশিষ্ট ইলেকট্রনটি ব্যবহার করে 1 টি করে H পরমাণুর 1 টি ইলেকট্রনের সঙ্গে ইলেকট্রন জোড় গঠন করে । ফলে প্রতিটি C পরমাণু নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাস Ne এর মতো ও প্রতিটি H পরমাণু নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাস He এর মতো স্থায়ী ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে । ফলে অণুটি C ≡ C বন্ধনের পাশাপাশি 2 টি C – H বন্ধন বর্তমান ।

 

(x) CO2 এর লুইস ডট গঠন

CO2 অনু গঠনের C পরমাণুর (ইলেকট্রন বিন্যাস: 2, 4) বহিঃস্থ কক্ষের 4 টি ইলেকট্রনের মধ্যে 2 টি ইলেকট্রন একটি O পরমাণুর (ইলেকট্রন বিন্যাস: 2, 6) বহিস্থ কক্ষের 2 টি ইলেকট্রনের সাথে জোড়বদ্ধ হয় এবং দুটি ইলেকট্রন জোড় গঠন করে । অনুরূপভাবে C পরমাণুর বহিস্থ কক্ষের অবশিষ্ট ইলেকট্রন দুটি অপর একটি O পরমাণুর বহিস্থ কক্ষের 2 টি ইলেকট্রনের সাথে মিলে দুটি ইলেকট্রন জোড় গঠন করে । ফলে C ও O উভয়ে নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় মৌল নিয়নের (Ne) অনুরূপ ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে সুস্থিত হয় । C ও প্রতিটি O পরমাণুর মধ্যে সমযোজী দ্বিবন্ধন গঠিত হয় এর ফলে CO2 অনুর উৎপন্ন হয় ।

(xi) C2H4 –এর লুইস ডট গঠন :-

C পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2) L (4) এবং H পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস K (1) । 2 টি C পরমাণু এবং 4 টি H পরমাণুর সংযোগে ইথিলিন (C2H4) অনু গঠিত হয় । এক্ষেত্রে দুটি C পরমাণু পরস্পরের মধ্যে 2 টি ইলেকট্রন জোড় গঠনের মাধ্যমে কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধনের (C = C) সৃষ্টি করে । প্রতিটি C পরমাণু আবার অবশিষ্ট দুটি যোজক ইলেকট্রন ব্যবহার করে 2 টি H পরমাণুর প্রতিটির 1 টি ইলেকট্রনের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে ইলেকট্রন জোড় গঠন করে । ফলে অণুটিতে C = C বন্ধনের পাশাপাশি 4 টি C – H বন্ধন উপস্থিত থাকে ।

(xii) O2 –এর লুইস ডট গঠন :-

N2 এর মতো ।

  1. সমযোজী যৌগের রাসায়নিক বিক্রিয়া ধীর গতিতে ঘটে কিন্তু আয়নীয় যৌগের বিক্রিয়ার হার দ্রুতকেন ?

উঃ – সমযোজী যৌগের অনু মধ্যস্থ সমযোজী বন্ধন খুবই শক্তিশালী হয় । এই বন্ধন ভাঙার জন্য প্রচুর পরিমান শক্তি, সময় ও কিছু ক্ষেত্রে অনুঘটকের ও প্রয়োজন হয় । সমযোজী বন্ধন ভাঙতে ও যেমন বেশি সময় লাগে তেমনি সমযোজী বন্ধন গঠিত হতেও বেশি সময় লাগে । তাই সমযোজী যৌগগুলির বিক্রিয়া ধীর গতিতে ঘটে ।

অপর পক্ষে আয়নীয় যৌগগুলির দ্রাবকে দ্রবীভূত, হয়ে আয়নে বিয়োজিত হয়ে যায় । এই আয়নগুলিই রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে । বিপরীত তড়িৎগ্রস্ত আয়নগুলি অনেক দ্রুত রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় সেই জন্যই আয়নীয় যৌগের বিক্রিয়ার হার দ্রুত ।

  1. আয়নীয় যৌগের ক্ষেত্রে আণবিক ওজন অপেক্ষা সংকেত ওজন কথাটি যথাযথ কেন ?

উঃ – ইহা 11 নং প্রশ্নের ন্যায় ।

  1. আয়নীয় যৌগরা সমাবয়বতা ধর্ম দেখায় না কেন ?

উঃ – আয়নীয় যৌগে উপাদান আয়নগুলি পরস্পর স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বল দ্বারা যুক্ত থাকে । তড়িৎ আকর্ষণ বলের কোনো নির্দিষ্ট অভিমুখ না থাকায় আয়নীয় বন্ধনেরও কোনো নির্দিষ্ট অভিমুখ থাকে না ।তাই আয়নীয় যৌগগুলি সমাবয়বতা ধর্ম দেখায় না ।

  1. NaCl একটি তড়িৎযোজী যৌগ কিন্তু CCl4 একটি সমযোজী যৌগব্যাখ্যা কারো 

উঃ – রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে NaCl অনু গঠনের সময় Na পরমাণু একটি ইলেকট্রন বর্জন করে Na+ আয়নে পরিণত হয় এবং সেই ইলেকট্রনটি Cl পরমাণু গ্রহণ করে Cl আয়নে পরিণত হয় । এইভাবে উৎপন্ন Na+ ও Cl আয়ন স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বল দ্বারা পরস্পর যুক্ত হয়ে NaCl অনু গঠন করে । আয়নের সমন্বয়ে গঠিত হয় বলে NaCl একটি তড়িৎযোজী বা আয়নীয় যৌগ।

অন্যদিকে CCl4 অনু গঠনের সময় একটি C পরমাণুর যোজক কক্ষে অবস্থিত 4 টি ইলেকট্রন 4 টি ক্লোরিন পরমাণুর সঙ্গে পৃথকভাবে সমযোজী এক বন্ধন গঠন করে । এইভাবে CCl4 অনু গঠিত হয় । তাই CCl4 একটি সমযোজী যৌগ ।

  1. ধরো দুটি মৌলের চিহ্ন A B এবং এদের পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে 7 20  A মৌলটির দুটি পরমাণু যুক্ত হয়ে অনু গঠন করলে অণুটির মধ্যে কী প্রকৃতির বন্ধন তৈরি হয় ? অণুটির ইলেকট্রন ডট গঠন দেখাও 

উঃ – A মৌলটির দুটি পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়ে অনু গঠন করলে অণুটির মধ্যে সমযোজী বন্ধন তৈরি হবে ।

A পরমাণুটির সর্ববহিস্থ কক্ষে 5 টি ইলেকট্রন আছে । দুটি A পরমাণু যখন অনু গঠন করে তখন তারা প্রত্যেকে 3 টি করে ইলেকট্রন দিয়ে 3 টি ইলেকট্রন জোড় গঠন করে এবং তিনটি ইলেকট্রন জোড়কে দুটি A পরমাণু সমভাবে ব্যবহার করে সর্ববহিস্থ কক্ষে অষ্টক পূর্তি ঘটায় । দুটি A পরমাণুর মধ্যে সমযোজী ত্রিবন্ধন গঠিত হয় ।

  1. MA2 একটি তড়িৎ যোজী যৌগ । জলীয় দ্রবণে ইহা কী কী আয়নে বিয়োজিত হয় ? MA2 এর জলীয় দ্রবনের তড়িৎ বিশ্লেষণে কোন আয়নটি ক্যাথোডে যায় ?

উঃ – MA2 জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে M2+ ক্যাটায়ন এবং দুটি A অ্যানায়ন সৃষ্টি করে ।

M2+ আয়নটি ক্যাথোডের দিকে যায় ।

  1. পার্থক্য লেখ –
    (a) তড়িৎযোজী যৌগ, সমযোজী যৌগ
    (b) আয়নীয় বন্ধন, সমযোজী বন্ধন

উঃ –

 বিষয়

তড়িৎযোজী যৌগ

সমযোজী যৌগ

i) ভৌত অবস্থা –    সাধারণ উষ্ণতা ও চাপে তড়িৎযোজী যৌগগুলি কঠিন কেলাসিত পদার্থ । সাধারণ চাপ ও উষ্ণতায় সমযোজী যৌগগুলি গ্যাসীয় বা তরল, উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন হলে কঠিন হয় ।
ii)  কাঠিন্য ও ভঙ্গুরতা –     আয়নীয় যৌগের অণুগুলি কঠিন কিন্তু ভঙ্গুর । সমযোজী যৌগগুলি সাধারণত তরল ও গ্যাসীয় হয় । কঠিন হলেও মোমের মতো নরম হয় । কিছু বৃহদাকার সমযোজী কেলাসের কাঠিন্য খুব বেশি হয় ।
iii) গলনাঙ্ক স্ফুটনাঙ্ক আয়নীয়র গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সাধারণত বেশি হয় । সমযোজী যৌগগুলির গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অপেক্ষাকৃত কম হয় ।
iv) দ্রাব্যতা – যৌগ গুলি জল বা অন্যান্য ধ্রুবীয় দ্রাবকে দ্রাব্য । যৌগগুলি অধ্রুবীয় বা জৈব দ্রাবকে দ্রাব্য ।
v) সমাবয়বতা –  আয়নীয় যৌগের সমাবয়বতা ধর্ম দেখা যায় না । সমযোজী যৌগের মধ্যে সমাবয়বতা ধর্ম দেখা যায় ।

আয়নীয় বন্ধন সমযোজী বন্ধন এর মধ্যে পার্থক্য লেখ    

আয়নীয় বন্ধন

সমযোজী বন্ধন

i) বন্ধন গঠনে অংশগ্রহণকারী পরমাণুগুলির এক বা একাধিক যোজক ইলেকট্রন আদান প্রদানে আয়নীয় বন্ধন গঠিত হয় । i) বন্ধন গঠনকারী পরমাণুগুলি দ্বারা এক বা একাধিক ইলেকট্রন জোড় সমভাবে ব্যবহৃত হয়ে সমযোজী বন্ধন সৃষ্টি হয় ।
ii) বন্ধনের প্রকৃতি সর্বদা ধ্রুবীয় বা পোলার হয় । ii) বন্ধনের প্রকৃতি ধ্রুবীয় বা অধ্রুবীয় দুরকম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
iii) নির্দিষ্ট অভিমুখ নেই । iii) নির্দিষ্ট অভিমুখ আছে ।
iv) আয়নীয় বন্ধন প্রকৃত বন্ধন নয় । এটি এক প্রকার স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বল । iv) সমযোজী বন্ধন প্রকৃত বন্ধন ।
v) মৌলগুলির তড়িৎ ঋণাত্বকতার পার্থক্য বেশি হলে আয়নীয় বন্ধন গঠিত হয় । v) মৌলগুলির তড়িৎ ঋণাত্বকতার পার্থক্য খুব কম হলে বা না থাকলে সমযোজী বন্ধন গঠিত হয় ।
  1. সমযোজী যৌগ গঠিত হওয়ার শর্ত আলোচনা কর 

উঃ – সমযোজী যৌগ গঠিত হওয়ার শর্ত :-

(i) পরমাণুর যোজ্যতা কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা :-

সমযোজী বন্ধন গঠনকারী পরমাণু দুটির যোজ্যতা কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা 4, 5, 6 বা 7 হওয়া দরকার । (ব্যতিক্রম হাইড্রোজেন)

(ii) বন্ধন গঠনে অংশগ্রহণকারী পরমাণুর আয়নন শক্তি :-

যে সব পারমাণুগুলি সমযোজী বন্ধন গঠনের মাধ্যমে অনু গঠন করে তারা সাধারণত উচ্চ আয়নন শক্তি সম্পন্ন হয় ।

(iii) পরমাণুগুলির তড়িৎ ঋণাত্বকতা :-

সমযোজী বন্ধন গঠনে অংশগ্রহণকারী দুটি পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্বকতা সমান বা প্রায় সমান হতে হবে ।

(iv) পরমানুগুলির ইলেকট্রন আসক্তি :-

বন্ধন গঠনে অংশগ্রহণকারী পরমাণু দুটির ইলেকট্রন আসক্তি প্রায় সমান হওয়া দরকার ।

  1. আয়নীয় যৌগ গঠিত হওয়ার শর্তগুলি আলোচনা কর

উঃ – আয়নীয় যৌগ গঠিত হওয়ার শর্তগুলি :-

(i) মৌলের পরমাণুর যোজ্যতা কক্ষে ইলেকট্রন সংখ্যা :-

ক্যাটায়ন গঠনকারী মৌলটির পরমাণুর যোজ্যতা কক্ষে ইলেকট্রন সংখ্যা 1, 2 অথবা 3 এবং অ্যানায়ন গঠনকারী মৌলটির পরমাণুর যোজ্যতা কক্ষে ইলেকট্রন সংখ্যা 5, 6 অথবা 7 হওয়া দরকার ।

(ii) তড়িৎ ঋণাত্বকতার পার্থক্য :-

বন্ধন গঠনকারী মৌল দুটির পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্বকতার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য থাকা দরকার। ক্যাটায়ন গঠনকারী মৌলের তড়িৎ ঋণাত্বকতা কম এবং অ্যানায়ন গঠনকারী মৌলের তড়িৎ ঋণাত্বকতা বেশি হতে হবে।

(iii) বন্ধন গঠনকারী মৌলের পরমাণুগুলির আকার :-

ক্যাটায়ন গঠনকারী মৌলের পরমাণুর আকার বড়ো এবং অ্যানায়ন গঠনকারী মৌলের পরমাণুর আকার ছোটো হতে হবে ।

(iv) আয়নের আধান :-

ক্যাটায়ন কম ধনাত্বক আধানযুক্ত ও অ্যানায়ন কম ঋনাত্বক আধানযুক্ত হওয়া দরকার ।

3.9 15 votes
Article Rating
guest
3 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Deb Kumar Kuila
Deb Kumar Kuila
2021-04-22 8:36 pm

Excellent,i enjoy it very very much. Thanks a lot to the writer of it.

Deb Kumar Kuila
Deb Kumar Kuila
2021-04-22 8:40 pm

Thanks a lot.

Tarikul Islam
Tarikul Islam
2021-07-23 5:23 am

Banggla