পর্যায় সারণী
Published 20-02-13
6435 Views
  1. পর্যায় সারণি বলতে কী বোঝ ?

উঃ – পর্যায় সারণি :-

বিভিন্ন মৌলকে তাদের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী তালিকা বদ্ধ করে একই ধর্ম বিশিষ্ট মৌলগুলিকে একই উল্লম্ব সারিতে এবং ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট মৌলগুলিকে পৃথক সারিতে রেখে যে সারণি পাওয়া যায় – তাকে পর্যায় সারণি বলে ।

  1. উদাহরণসহ ডোবেরিনারের ত্রয়ী সূত্রটি লেখ  ত্রুটি লেখ

উঃ – ডোবেরিনারের সূত্র :-

রাসায়নিক ধর্মের মিল আছে এমন তিনটি মৌলকে তাদের পারমাণবিক গুরুত্বের ঊর্ধ্বক্রমে সাজালে মাঝের মৌলটির পারমাণবিক গুরুত্ব অন্য দুটি মৌলের পারমাণবিক গুরুত্বের গড়ের প্রায় সমান হয় ।

উদাহরণ –

রাসায়নিক ভাবে সদৃশ Li, Na ও K এর পূর্ণ সংখ্যায় প্রকাশিত পারমাণবিক ভর যথাক্রমে 7, 23 ও 39, Li ও K এর গড় পারমাণবিক ভর

= (7 + 39)/2

= 23

আবার Na -এর পারমাণবিক ভর (পূর্ণ সংখ্যায়) = 23

ত্রুটি :-

(i) সমকালীন আবিষ্কৃত মৌলগুলির মধ্যে থেকে কেবল চারটি ত্রয়ী গঠন করেন বিজ্ঞানী ডোবেরিনার। বাকি মৌলগুলির ক্ষেত্রে এই সূত্রটি প্রযোজ্য নয় ।

(ii) একই শ্রেণিতে অবস্থিত অর্থাৎ সমধর্মী সকল মৌলের ক্ষেত্রে এই সূত্র প্রযোজ্য হয় না ।

  1. নিউল্যান্ডসের অষ্টক সূত্র ।

উঃ – নিউল্যান্ডসের অষ্টক সূত্র :-

কোনো একটি নির্দিষ্ট মৌল থেকে শুরু করলে অষ্টম মৌলে প্রথম মৌলের ধর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটে ।

  1. পর্যায় সারণি সৃষ্টিতে বিজ্ঞানী লোথার মেয়ারের সূত্রটি বিবৃত কর 

উঃ – লোথার মেয়ারের সূত্র :-

বিভিন্ন মৌলের ভৌত ধর্মগুলি (যেমন – পারমাণবিক আয়তন, ঘনত্ব, গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক ইত্যাদি) তাদের পারমাণবিক ভরের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে পুনরাবৃত্ত হয় ।

  1. মেন্ডেলিফের পর্যায় সূত্রটি বিবৃত কর 

উঃ – মেন্ডেলিফের পর্যায় সূত্র :-

বিভিন্ন মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম তাদের পারমাণবিক গুরুত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে পুনরাবৃত্ত হয় ।

  1. পর্যায় সারণির পর্যায় শ্রেণি এবং উপশ্রেণি বলতে কী বোঝায় ?

উঃ – পর্যায় শ্রেণি :-

পর্যায় সারণির অনুভূমিক সারিগুলিকে পর্যায় এবং উল্লম্ব সারিগুলিকে শ্রেণি বা গ্রূপ বলে ।

উপশ্রেণি :-

মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির সংশোধিত সংস্করণে শূন্য (0) শ্রেণি এবং অষ্টম (VIII) শ্রেণি ছাড়া প্রথম (I) থেকে সপ্তম (VII) শ্রেণি পর্যন্ত মৌলগুলিকে প্রতিটি শ্রেণিকে A ও B দুটি অংশে ভাগ করা হয়েছে । এগুলিকে উপশ্রেণি বলে ।

  1. পর্যাবৃত্তি কাকে বলে ?

উঃ – মৌলগুলিকে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক গুরুত্ব অনুযায়ী সাজালে নির্দিষ্ট সংখ্যার ব্যবধানে তাদের ধর্মগুলির পুনরাবৃত্তি ঘটে । এই ঘটনাকে মৌলসমূহের পর্যাবৃত্তি বলে ।

  1. মেন্ডেলিফের পর্যায়সারণিতে শূন্য শ্রেণি ছিলনা কেন ?

উঃ – মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণি প্রকাশকালে (1871) 63 টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছিল । নিষ্ক্রিয় মৌলগুলির অস্তিত্ব ছিল না তাই মেন্ডেলিফের মূল সারণিতে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের উল্লেখ ছিল না তাই শূন্য শ্রেণি ছিল না ।

  1. মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে উপশ্রেণীর প্রয়োজন হয়েছিল কেন ?

উঃ – মেন্ডেলিফ তার পর্যায় সারণিতে মৌলগুলিকে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ভর অনুসারে সাজানোর সময় সমধর্ম সম্পন্ন মৌলগুলিকে একই শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করার পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন । কোনো একটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত মৌলসমূহের ধর্মাবলি একই রকমের হবে আশা করা হয়েছিল । কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল 0 (শূন্য) এবং VIII নং শ্রেণি ছাড়া অন্যান্য শ্রেণির কোনো কোনো মৌলকে ভিন্নধর্মী অন্য মৌলসমূহের সাথে একই শ্রেণিতে স্থান দেওয়া হয়েছে । এই অসামঞ্জস্য দূর করার জন্য I থেকে VII নং শ্রেণিগুলির প্রত্যেকটিকে A ও B উপশ্রেণিতে ভাগ করা হয় । একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত একই শ্রেণিভুক্ত ভিন্ন উপশ্রেণির মৌলগুলি সমধর্মী হয় । কিন্তু একই শ্রেণিভুক্ত ভিন্ন উপশ্রেণির মৌলগুলি শুধুমাত্র যোজ্যতা ছাড়া আর কোনো দিক থেকেই সমধর্মী হয় না ।

  1. মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির গুরুত্ব আলোচনা কর 

উঃ – মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির গুরুত্ব :-

(i) পর্যায় সারণি তৈরির সময় অবাঞ্চিত কিছু মৌলের জন্য মেন্ডেলিফ পর্যায় সারণিতে কতকগুলি স্থান ফাঁকা রেখেছিলেন । তিনি এইসব অবাঞ্চিত মৌলের ধর্ম সম্বন্ধেও ভবিষ্যদবাণী  করেছিলেন, এই ঘটনা পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানীদের নতুন মৌল আবিষ্কারের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল ।

(ii) পর্যায় সারণির একই শ্রেণির অন্তর্গত মৌল গুলির ধর্মে সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায় এই কারণে কোনো একটি শ্রেণির যে কোনো একটি মৌল ও তার যৌগ সমূহের ধর্ম জানা থাকলে ওই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত বাকি মৌল এবং তাদের যৌগের ধর্ম সম্পর্কেও অনেকগুলি ধারণা লাভ করা যায় ।

(iii) মেন্ডেলিফের সময় বেশ কিছু মৌলের পারমাণবিক ভর ত্রুটিপূর্ণ ছিল । পর্যায় সারণির সাহায্যে এইসব মৌলের পারমাণবিক ভর সংশোধন করা সম্ভব হয়েছে ।

  1. মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির ত্রুটি গুলি লেখ 

উঃ – মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির ত্রুটি :-

(i) পর্যায়ক্রমে অসংগতি :-

পর্যায় সারণিতে মৌলগুলিকে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক গুরুত্ব অনুসারে সাজাতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে উচ্চতর পারমাণবিক গুরুত্ব সম্পন্ন মৌলগুলিকে নিম্নতর পারমাণবিক গুরুত্ব সম্পন্ন মৌলের পূর্বে স্থাপন করা হয়েছে ।

যেমন, –

a) আর্গন (Ar) এর পারমাণবিক গুরুত্ব 39.9 । পটাসিয়াম (K) এর পারমাণবিক গুরুত্ব 39.1 । কিন্তু পর্যায় সারণিতে আর্গনের পরে পটাসিয়াম আছে ।

b) কোবাল্টের (Co) পারমাণবিক গুরুত্ব 58.94 এবং নিকেল (Ni) এর পারমাণবিক গুরুত্ব 58.69 কিন্তু নিকেলের স্থান কোবাল্টের পরে আছে পর্যায় সারণিতে ।

c) টেলুরিয়াম (Te) এর পারমাণবিক গুরুত্ব 127.6 এবং আয়োডিনের (I) এর পারমাণবিক গুরুত্ব 126.9 কিন্তু আয়োডিনকে টেলুরিয়ামের পরে স্থান দেওয়া হয়েছে ।

(ii) পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেনের অবস্থান :-

মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেনের অবস্থান বিতর্কিত কারণ I A ও VII A উভয় গ্রূপের মৌলের সাথে হাইড্র্রোজেনের বেশ কিছু ধর্মগত মিল আছে ।

(iii) আইসোটোপের অবস্থানগত ত্রুটি :-

পারমাণবিক ভর ভিন্ন হওয়া সত্বেও একটি মৌলের সমস্ত আইসোটোপ বা সমস্থানিক গুলিকে মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে একই স্থানে (একই পর্যায়ের একই গ্রূপে) রাখা হয়েছে ।

(iv) আইসোমারদের স্থানগত ত্রুটি :-

আইসোমারগুলির (যেমন- 40Ar18, 40Ca20) পারমাণবিক ওজন একই হলেও তারা পৃথক স্থানে রাখা হয়েছে ।

(v) গ্রূপ VIII এর মৌল সমূহের উপযুক্ত স্থানের অভাব :-

চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ পর্যায়ের অষ্টম শ্রেণিতে একসঙ্গে তিনটি করে মৌল যথাক্রমে (Fe, Co, N) (Ru, Rh, Pd) এবং (Os, Ir, Pt) স্থান পেয়েছে । যা পর্যায় সারণির বিন্যাসের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ।

(vi) ভিন্নধর্মী মৌলের সমশ্রেনীতে অবস্থান :-

বিভিন্ন রাসায়নিক ধর্ম বিশিষ্ট কয়েকটি মৌলকে পর্যায় সারণির একই শ্রেণিতে স্থান দেওয়া হয়েছে ।

যেমন – রাসায়নিক ধর্ম পৃথক হওয়া সত্বেও Li, Na, K এর মতো তীব্র ক্ষারধর্মী ধাতুর সঙ্গে Cu, Au, Ag প্রভৃতি মুদ্রা ধাতুকে একই গ্রূপ ভুক্ত (1 গ্রূপ) করা হয়েছে । একইভাবে ভিন্নধর্মী হওয়া সত্বেও Mn, Tc, Re কে হ্যালোজেন মৌলগুলির সঙ্গে VII শ্রেণীতে স্থান দেওয়া হয়েছে ।

(vii) সদৃশধর্মী মৌলের ভিন্ন শ্রেণীতে অবস্থান :-

একই রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট কয়েকটি মৌলকে বিভিন্ন শ্রেণিতে স্থান দেওয়া হয়েছে ।

যেমন – বেরিয়াম (Ba) এবং লেড (Pb) সদৃশধর্মী হলেও Ba কে II শ্রেণি এবং Pb কে IV শ্রেণীতে স্থান দেওয়া হয়েছে ।

  1. মোজলের পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কী ? পর্যায় সারণির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব কী ?

উঃ – মোজলের পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত :-

1913-14 সালে বিজ্ঞানী মোজলে বিভিন্ন মৌলের ওপর তীব্র গতি সম্পন্ন ইলেকট্রনের স্রোত অর্থাৎ ক্যথোড রশ্মি দ্বারা আঘাত করে X রশ্মির বর্ণালি উৎপন্ন করেন । এভাবে সৃষ্ট X রশ্মির বর্ণালির ওপর তিনি নানাবিধ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন ।

এই পরীক্ষা থেকে মোজলে সিদ্ধান্তে আসেন, পরমানু ক্রমাঙ্ক মৌলের মূলগত ধর্মের নিয়ন্ত্রক, পারমাণবিক ভর নয় । অর্থাৎ কোনো মৌলের বিভিন্ন ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য তার পরমাণু ক্রমাঙ্কের ওপর নির্ভর করে ।

পর্যায় সারণির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব :-

এই সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ মৌলগুলিকে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে ক্রমবর্ধমান পরমাণু ক্রমাঙ্ক অনুসারে পর্যায় সারণিতে সাজিয়ে মেন্ডেলিফের পর্যায় সূত্রের সংশোধন করা হয়েছে ।

এই সংশোধিত পর্যায় সূত্রের ওপর ভিত্তি করে মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণি আধুনিক সংস্করণ ও দীর্ঘ পর্যায় সারণি প্রকাশিত হয় ।

  1. মেন্ডেলিফের পর্যায় সূত্রের সংশোধিত রূপটি লেখ
    অথবা,
    আধুনিক পর্যায় সূত্রটি লেখ

আধুনিক পর্যায় সূত্র :-

বিভিন্ন মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মগুলি তাদের পরমাণু ক্রমাঙ্কের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে পুনরাবৃত্তি হয় ।

  1. আদর্শ বা প্রতিনিধি মৌল বলতে কী বোঝ ? একটি আদর্শ মৌলের নাম লেখ 

উঃ – আদর্শ বা প্রতিনিধি মৌল :-

যে সমস্ত মৌলের সর্বহিস্থ কক্ষ ছাড়া অন্য সব কক্ষেই সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সংখ্যায় ইলেকট্রন থাকে । তাদের আদর্শ মৌল বা প্রতিনিধি মৌল বলে ।

1, 2 এবং 13-17 নং শ্রেণির মৌলগুলি এই ধরনের মৌল । এই মৌলগুলি রাসায়নিকভাবে খুবই সক্রিয় হয়, প্রকৃতিতে এদের প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায় ।

একটি আদর্শ মৌলের নাম সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K) |

  1. ক্ষারধাতু কোন গুলি ? এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে কেন ?

উঃ – ক্ষারধাতু :-

দীর্ঘ পর্যায় সারণিতে 1নং শ্রেণিতে বা মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির গ্রূপ IA তে অবস্থিত লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs), ও ফ্রান্সিয়াম (Fr) – এই ছয়টি ধাতু হল ক্ষারধাতু ।

এরূপ নামকরণের কারণ :-

এই মৌলগুলির অক্সাইড ও হাইড্রক্সাইড যৌগগুলি তীব্র ক্ষারধর্মী এবং এই ধাতুগুলি সাধারণ উচ্চতায় জলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তীব্রক্ষার ধর্মী হাইড্রক্সাইড যৌগ উৎপন্ন করে এই কারণে এদের ক্ষারধাতু বলে ।

  1. ক্ষার ধাতুগুলির বৈশিষ্ট্য লেখ 

উঃ – ক্ষার ধাতুগুলির বৈশিষ্ট্য :-

(i) ক্ষার ধাতুগুলি প্রত্যেকই তীব্র তড়িৎ ধনাত্মক ধাতু ।

(ii) এরা সহজেই ইলেকট্রন বর্জন করে ক্যাটায়নে পরিণত হওয়ার প্রবণতা দেখায় ।

(iii) এরা রাসায়নিক ভাবে সক্রিয় হওয়ায় প্রকৃতিতে এদের মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না ।

(iv) প্রতিটি ক্ষারধাতুর পরমাণুর সর্ববহিস্থ কক্ষে 1 টি ইলেকট্রন বর্তমান তাই এরা একযোজী অর্থাৎ এদের প্রত্যেকেরই যোজ্যতা 1 ।

(v) এদের অক্সাইড এবং হাইড্রক্সাইডগুলি তীব্র ক্ষারধর্মী ।

(vi) এরা জলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ধাতব হাইড্রাইড ও H2 গ্যাস উৎপন্ন করে ।

(vii) ক্ষার ধাতুগুলি উত্তম বিজারক পদার্থ । এদের বিজারণ ক্ষমতার ক্রম Li < Na < K < Rb < Cs |

  1. ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু বলতে কী বোঝ ? এদের এরূপ নামকরণের কারণ কী ?

উঃ – ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু :-

মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে IIA শ্রেণি বা দীর্ঘ পর্যায় সারণির 2 নং শ্রেণির বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালশিয়াম (Ca), স্ট্রনশিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) ও রেডিয়াম (Ra) কে ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু বলে ।

এরূপ নামকরণের কারণ

এই মৌলগুলি ভূত্বকে পর্যাপ্ত পরিমানে পাওয়া যায় এবং এদের অক্সাইড বা হাইড্রাইড মৃদু ক্ষারধর্মী, এবং জলের সঙ্গে বিক্রিয়ায় এরা ধাতব হাইড্রক্সাইড গঠন করে যা ক্ষাররূপে আচরণ করে ।

তাই এদের ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু বলে ।

Ca + H2o = Ca (OH)2 + H2

  1. ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতুর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখ 

উঃ – ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতুর বৈশিষ্ট্য :-

(i) ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতুগুলি তীব্র তড়িৎ ধনাত্বক ।

(ii) এরা ইলেকট্রন বর্জন করে ক্যাটায়নে পরিণত হওয়ার প্রবণতা দেখায় ।

(iii) এরা রাসায়নিকভাবে খুবই সক্রিয় হওয়ায় প্রকৃতিতেএদের মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না । তবে এদের রাসায়নিক সক্রিয়তা ক্ষারধাতু অপেক্ষা কম ।

(iv) এদের পরমাণুর সর্ববহিস্থ কক্ষে 2টি ইলেকট্রন বর্তমান । তাই এদের যোজ্যতা 2 ।

(v) ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতুগুলি তীব্র বিজারক দ্রব্যরূপে কাজ করে । এদের বিজারণ ধর্মের ক্রম  Be < Mg < Ca < Sr < Ba ।

  1. হ্যালোজেন মৌল কোনগুলি ? এদের এরূপ নামকরণের কারণ কী ?

উঃ – হ্যালোজেন মৌল :-

মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে VII B শ্রেণি বা দীর্ঘ পর্যায় সারণির 17 নং শ্রেণির ফ্লুরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I) এবং অ্যাস্টাটিন (At) – এই পাঁচটি মৌলকে হ্যালোজেন মৌল বলে ।

এরূপ নামকরণের কারণ :-

হ্যালোজেন শব্দটির অর্থ লবন উৎপাদক । গ্রিক শব্দ Halas এর অর্থ লবন ও gen এর অর্থ তৈরি করা । At ছাড়া এই শেণির মৌলগুলি ধাতু বা ধাতু সদৃশ মূলকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে লবন উৎপাদন করে ।

এছাড়া ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন এই তিনটি মৌল দ্বারা গঠিত বিভিন্ন লবন জলে পাওয়া যায় বলে 17 নং শ্রেণির এই পাঁচটি মৌলের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে ।

  1. হ্যালোজেন মৌলগুলির বৈশিষ্ট্য লেখসুপার হ্যালোজেন কাকে বলে ?

উঃ – হ্যালোজেন মৌলগুলির বৈশিষ্ট্য :–

(i) হ্যালোজেন মৌলগুলি সক্রিয় বলে প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না ।

(ii) হ্যালোজেন মৌলগুলি তীব্র তড়িৎ ঋণাত্মক । এদের তড়িৎ ঋণাত্মকতার ক্রম F > Cl > Br > I

(iii) এদের পরমাণুর সর্ববহিস্থ কক্ষে 7 টি ইলেকট্রন বর্তমান তাই এদের যোজ্যতা 1 ।

(iii) এরা প্রত্যেকেই অধাতু এবং দ্বিপরমাণুর অনুরূপে বিরাজ করে ।

(iv) হ্যালোজেন মৌলগুলি তীব্র জারক পদার্থ এদের জারণ ধর্মের ক্রম  F > Cl > Br > I

সুপার হ্যালোজেন :-

আধুনিক দীর্ঘ পর্যায় সারণির 17 নং শ্রেণিতে অবস্থিত প্রথম হ্যালোজেন মৌল ফ্লুওরিন F কে সুপার হ্যালোজেন বলে । কারণ –

ফ্লুওরিনের আকার খুব ছোটো ও তড়িৎ ঋণাত্মকতা সবচেয়ে বেশি হওয়ায় ফ্লুওরিন খুব সক্রিয় এবং অন্যান্য হ্যালোজেন অপেক্ষা রাসায়নিক ধর্মে বেশ কিছু পার্থক্য লক্ষ করা যায় তাই ফ্লুওরিনকে সুপার হ্যালোজেন বলে ।

  1. নিষ্ক্রিয় বা নোবল গ্যাস কোন গুলি ? এদের মধ্যে কোনটি রাসায়নিক ভাবে সক্রিয় ? এদের নিষ্ক্রিয় বা শূন্যযোজী মৌল বলার কারণ কী ?

উঃ – নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা নোবল গ্যাস :-

মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির পরিমার্জিত সংস্করণের শূন্য শ্রেণি বা দীর্ঘ পর্যায় সারণির 18 নং শ্রেণিতে অবস্থিত 6 টি মৌল হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপটন (Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn) কে নিস্ক্রিয় মৌল বা নোবল গ্যাস বলে । এদের মধ্যে (Xe) রাসায়নিকভাবে সবচেয়ে সক্রিয় ।

নিষ্ক্রিয় মৌল বা শূন্য যোজী মৌল বলার কারণ :-

নস্ক্রিয় মৌলগুলির সর্ববহিস্থ কক্ষ ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ থাকায় এরা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না । এজন্য এদের যোজ্যতা শূন্য ধরা হয় । তাই মৌলগুলিকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা শূন্য যোজী মৌল বলে ।

  1. সেতু মৌল কাকে বলে ? এরূপ নাম করণের কারণ কী ?

উঃ – সেতু মৌল :-

দীর্ঘ পর্যায় সারণির 18 নং শ্রেণিতে নিষ্ক্রিয় মৌলসমূহ (He, Ne, Ar, Kr, Xe ও Rn) কে সেতু মৌল বলে ।

এরূপ নামকরণের কারণ :-

এই মৌলগুলি 17 নং শ্রেণির তীব্র তড়িৎঋণাত্বক হ্যালোজেন মৌল ও পরবর্তী পর্যায়ের 1 নং শ্রেণিতে তীব্র তড়িৎ ধনাত্মক ক্ষার ধাতু মৌল গুলির মাঝে সেতু হিসেবে কাজ করে । তাই এদের সেতু মৌল বলে ।

  1. সন্ধিগত মৌল কাদের বলা হয় ? এদের এরূপ নামকরণের কারণ কী ?

উঃ – সন্ধিগত মৌল :-

যে সব মৌলের পরমাণুর স্থিতাবস্থায় বা যে কোনো স্থায়ী জারণ অবস্থায় সর্ববহিস্থ কক্ষ ও তার আগের কক্ষ ইলেকট্রন দ্বারা আংশিকভাবে পূর্ণ থাকে তাদের সন্ধিগত মৌল বলে ।

দীর্ঘ পর্যায় সারণির 3 থেকে 12 পর্যন্ত শ্রেণিতে উপস্থিত মৌলগুলিকে সন্ধিগত মৌল বলে ।

এরূপ নামকরণের কারণ :-

এই মৌলগুলি 1 ও 2 নং শ্রেণির তীব্র তড়িৎ ধনাত্মক মৌল এবং 13 – 17 নং শ্রেণির প্রধানত তড়িৎ ঋণাত্মক মৌলের মাঝে অবস্থান করে । অর্থাৎ এই মৌলগুলির মাধ্যমে তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ও তড়িৎ ঋণাত্মক মৌলের মধ্যে মিলন বা সন্ধি ঘটে । তাই এই মৌলগুলির এরূপ নামকরণ করা হয়েছে ।

  1. সন্ধিগত মৌলের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখ 

উঃ – সন্ধিগত মৌলের বৈশিষ্ট্য :-

(i) মার্কারি (তরল ধাতু) ছাড়া সমস্ত সন্ধিগত মৌল গুলিই কঠিন ধাতু ।

(ii) অধিকাংশ সন্ধিগত মৌলগুলি একাধিক যোজ্যতা এবং জারণ অবস্থা দেখা যায় ।

(iii) সন্ধিগত মৌলগুলি রঙিন জটিল যৌগ গঠন করতে পারে ।

(iv) বহু সন্ধিগত মৌল ও তাদের যৌগ অনুঘটক রূপে কাজ করে ।

(v) এই মৌলগুলি প্রত্যেকেই ধাতু ; উচ্চ গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট ; তাপ ও তড়িতের সুপরিবাহী ।

  1. মুদ্রা ধাতুগুলি পর্যায় সারণির কোথায় অবস্থিত ? এদের এরূপ নামকরণের কারণ কী ?

উঃ – মুদ্রা ধাতু :-

মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির I B শ্রেনীতে বা দীর্ঘ পর্যায় সারণির 11 নং শ্রেণিতে যথাক্রমে 4, 5 ও 6 নং পর্যায়ে কপার, সিলভার, গোল্ড – এই তিনটি মুদ্রা ধাতু অবস্থিত ।

এইরূপ নামকরণের কারণ :-

প্রাচীনকালে কপার (Cu), সিলভার (Ag) এবং গোল্ড (Au) -এই তিনটি ধাতু মুদ্রা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হত । তাই এদের মুদ্রা ধাতু বলে ।

  1. নিকটোজেন মৌল কাদের বলে ? এরূপ নামকরণের কারণ কী ?

উঃ – নিকটোজেন মৌল :-

মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির V B শ্রেণি বা দীর্ঘ পর্যায় সারণির 15 নং শ্রেণিতে অবস্থিত নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), আর্সেনিক (As), অ্যান্টিমনি (Sb), বিসমাথ (Bi) মৌলগুলিকে নিকটোজেন মৌল বলে ।

এরূপ নামকরণের কারণ :-

নিকটোজেন কথাটি গ্রিকশব্দ নিকটোজেনস থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ হল শ্বাসরুদ্ধ অবস্থা । 15 নং শ্রেণির প্রথম মৌল নাইট্রোজেন একটি শ্বাসরোধকারী গ্যাস । তাই এই শ্রেণির মৌলগুলির এরূপ নামকরণ করা হয়েছে ।

  1. চ্যালকোজেন মৌল কাদের বলে ? এরূপ নামকরণের কারণ কী ?

উঃ – চ্যালকোজেন মৌল :-

মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণির VI B শ্রেণি বা দীর্ঘ পর্যায় সারণির 16 নং শ্রেণিতে অবস্থিত অক্সিজেন (O), সালফার (S), সেলেনিয়াম (Se), টেলুরিয়াম (Te) ও পোলেনিয়াম (Po) মৌলগুলিকে চ্যালকোজেন মৌল বলে ।

এরূপ নামকরণের কারণ :-

‘চ্যালকোজেন’ কথাটির অর্থ আকরিক গঠনকারী । এই মৌলগুলি বিশেষ করে অক্সিজেন, সালফার বিভিন্ন ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধাতব অক্সাইড বা ধাতব সালফাইড গঠন করে আকরিকের উপাদান রূপে অবস্থান করে । তাই এই শ্রেণির মৌলগুলির এরূপ নামকরণ করা হয়েছে ।

  1. বর ধাতু অবর ধাতু বলতে কী বোঝ ? উদাহরণ দাও 

উঃ – বর ধাতু :-

যে সব ধাতু রাসায়নিকভাবে তেমন সক্রিয় নয় তাদের বর ধাতু বলে । এদেরকে প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় । যেমন – প্ল্যাটিনাম, গোল্ড ইত্যাদি বরধাতু ।

অবর ধাতু :-

যে সব ধাতু রাসায়নিক ভাবে সক্রিয় তাদের অবর ধাতু বলে । এদেরকে প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না । বিভিন্ন যৌগরূপে পাওয়া যায় । যেমন- সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিংঙ্ক, ইত্যাদি ধাতু ।

  1. ইউরেনিয়ামোত্তর বলতে কী বোঝায় ? এদের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো 

উঃ – ইউরেনিয়ামোত্তর মৌল :-

দীর্ঘ পর্যায় সারণির সপ্তম পর্যায়ে অবস্থিত ইউরেনিয়ামের (92U) পরে থাকা কৃত্তিমভাবে সংশ্লেষিত মৌলগুলিকে ইউরেনিয়ামোত্তর মৌল বলে ।

যেমন – নেপচুনিয়াম (93Np), প্লুটোনিয়াম (94Pu), অ্যামিরিশিয়াম (95Am) প্রভৃতি ।

ইউরেনিয়ামোত্তর মৌলগুলির বৈশিষ্ট্য :-

(i) ইউরেনিয়ামোত্তর মৌলগুলি তেজস্ক্রিয় হয় ।

(ii) ইউরেনিয়ামোত্তর মৌলগুলিকে প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না । কৃত্রিমভাবে নিউক্লিয় বিক্রিয়া দ্বারা এদেরকে প্রস্তুত করা হয়েছে । তাই এরা কৃত্রিম মৌল নামে পরিচিত ।

  1. বিরল মৃত্তিকা মৌল কাদের বলে ? এরূপ নামকরণের কারণ কী ? উদাহরণ দাও 

উঃ – বিরল মৃত্তিকা মৌলল্যান্থানাইড মৌল :-

পর্যায় সারণিতে ষষ্ট পর্যায়ে ল্যান্থারাম (La) এর পরবর্তী 14 টি মৌলের অর্থাৎ সিরিয়াম (Ce) থেকে লুটেসিয়াম (Lu) পর্যন্ত মৌলগুলির ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায় । এই 14 টি মৌলকে মূল পর্যায় সারণির নীচে একটি আলাদা অনুভূমিক সারিতে স্থান দেওয়া হয়েছে । এদের বলা হয় বিরল মৃত্তিকা মৌল বা ল্যান্থানাইড মৌল ।

এরূপ নামকরণের কারণ :-

পূর্বে ধারণা ছিল যে, এই সমস্ত মৌলগুলি প্রকৃতিতে খুব কম পরিমানে পাওয়া যায় । তাই এদেরকে বিরল মৃত্তিকা মৌল বলে ।

উদাহরন – সিরিয়াম (58Ce), ইউরেনিয়াম (63Eu) ।

  1. হাইড্রোজেনের সাথে ক্ষারধাতুর কয়েকটি সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য লেখ 

উঃ – হাইড্রোজেনের সাথে ক্ষারধাতুর সাদৃশ্য :-

(i) ক্ষারধাতুর মতো হাইড্রোজেনও তড়িৎ ধনাত্বক মৌল ।

(ii) ক্ষারধাতুর মতো হাইড্রোজেন ও 1 টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে ক্যাটায়ন গঠন করে ।

(iii) ক্ষারধাতু ও হাইড্রোজেন উভয়েরই যোজ্যতা 1 ।

(iv) উভয়েরই বিজারণ ধর্ম বর্তমান ।

(v) অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উভয়ই অক্সাইড গঠন করে ।

(vi) ক্ষারধাতুর মতো হাইড্রোজেনও হ্যালোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে হ্যালাইড গঠন করে ।

হাইড্রোজেনের সাথে ক্ষারধাতুর বৈসাদৃশ্য :-

ক্ষারধাতু

হাইড্রোজেন

i) অধিকাংশ ধাতু সাধারণ উষ্ণতায় কঠিন মৌল । i) হাইড্রোজেন সাধারণ উষ্ণতায় গ্যাসীয় মৌল ।
ii) ক্ষারধাতু গুলি একপরমাণুক । ii) হাইড্রোজেন দ্বিপরমাণুক ।
iii) ক্ষার ধাতুগুলি তীব্র তড়িৎ ধনাত্বক মৌল । iii) হাইড্রোজেন তড়িৎ ধনাত্বক হলেও অধাতব মৌল।
iv) ক্ষারধাতু গুলি আয়নিত হয়ে সর্বদাই ক্যাটায়ন উৎপন্ন করে ।

Na → Na+ + e

K = K+ + e

iv) হাইড্রোজেন সাধারণত ক্যাটায়ন গঠন করলেও ধাতব হাইড্রাইড যৌগ অ্যানায়নরূপে থাকে ।

NaH ⇌ Na+ + H

CH2 ⇌ C2+ + 2H

v) ক্ষারধাতু অক্সাইড ক্ষারীয় প্রকৃতির । v) হাইড্রোজেনের অক্সাইড H2O প্রশম প্রকৃতির ।
  1. হাইড্রোজেনের সঙ্গে হ্যালোজেনের মৌলের কয়েকটি সদৃশ্য বৈসাদৃশ্য লেখ 

উঃ – হাইড্রোজেনের সাথে হ্যালোজেনের মৌলের সদৃশ্য :-

(i) হাইড্রোজেনের মতো হ্যালোজেন মৌলগুলির যোজ্যতা 1 ।

(ii) হ্যালোজেন মৌলের অনুর মতো হাইড্রোজেন ও দ্বিপরমাণুক । যেমন – F2, Cl2, Ar2, H2

(iii) হাইড্রোজেন ও হ্যালোজেন উভয়ই অধাতব মৌল ।

(iv) ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়ায় হ্যালোজেন গুলি ধাতব হ্যালাইড গঠন করে। যেমন – NaCl ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন ও ধাতব হাইড্রাইড (যেমন – NaH) গঠন করে ।

হাইড্রোজেনের সঙ্গে হ্যালোজেনের বৈসাদৃশ্য :-

হ্যালোজেন

হাইড্রোজেন

i) হ্যালোজেন গুলি তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল । i) হাইড্রোজেন তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ।
ii) সাধারণ উচ্চতায় ফ্লুরিন ও ক্লোরিন গ্যাস কিন্তু ব্রোমিন তরল ও আয়োডিন কঠিন । ii) সাধারণ উষ্ণতায় হাইড্রোজেন গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে ।
iii) হ্যালোজেন সাধারণত জারক পদার্থ যদি ও আয়োডিনের বিজারণ ধর্ম ও দেখা যায় । iii) হাইড্রোজেন সাধারণত বিজারক পদার্থ রূপেই কাজ করে ।
iv) হ্যালোজেন মৌলগুলির সর্ববহিস্থ কক্ষে 7 টি করে ইলেকট্রন থাকে । iv) হাইড্রোজেনের একমাত্র কক্ষে 1 টি ইলেকট্রন থাকে ।
  1. হাইড্রোজেনকে দুষ্ট মৌল বলা হয় কেন ?

উঃ – হাইড্রোজেনের সঙ্গে I A বা 1 নং শ্রেনীর ক্ষারধাতু গুলির সঙ্গে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লিখতে হবে ।

হাইড্রোজেনের সঙ্গে VII A বা 17 নং শ্রেণির হ্যালোজেন মৌলের সঙ্গে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লিখতে হবে ।

সুতরাং দেখা যায় হ্যালোজেন ও ক্ষার ধাতু উভয়ের সঙ্গে H2 এর ধর্মের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য উভয়ই বর্তমান । এই দ্বৈত আচরণের জন্য মেন্ডেলিফ হাইড্রোজেনকে দুষ্ট মৌল আখ্যা দিয়েছিলেন ।

  1. দীর্ঘ পর্যায় সারণির কয়েকটি ত্রুটি উল্লেখ কর

উঃ – দীর্ঘ পর্যায় সারণির ত্রুটি :-

(i) এই সারণিতে হাইড্রোজেনের অবস্থান এখনও সুনির্দিষ্ট করা যায় নি ।

(ii) ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে হিলিয়ামের অবস্থান 2 নং শ্রেণিতে হওয়ার কথা । কিন্তু নিষ্ক্রিয় গ্যাসের সঙ্গে ধর্মের সাদৃশ্যের জন্য মৌলটিকে 18 নং শ্রেণীতে স্থান দেওয়া হয়েছে ।

(iii) মেন্ডেলিফের সারণির মতো এখানেও ল্যান্থানাইড এবং অ্যাকটিনাইড সারির প্রত্যেকটি মৌলকে পৃথকভাবে উপযুক্তস্থানে বসানো সম্ভব হয় নি এদেরকে মূল সারণির নিচে পৃথকভাবে অনুভূমিক সারিতে স্থান দেওয়া হয়েছে ।

  1. আয়োনাইজেশন শক্তি কাকে বলে ? এর একক লেখ

উঃ – আয়োনাইজেশন শক্তি বা আয়নন শক্তি বা আয়নন বিভব :-

ভূমিস্তরে বা সর্বনিম্ন শক্তিস্তরে থাকা কোনো মৌলের একটি বিচ্ছিন্ন গ্যাসীয় পরমাণুর সর্ববহিস্থ কক্ষের (যোজন কক্ষ) সর্বাপেক্ষা শিথিলভাবে আবদ্ধ ইলেকট্রনটিকে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে । পরমাণুটিকে একক চার্জযুক্ত ধনাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে নূনতম শক্তির প্রয়োজন হয় তাকেই ওই মৌলের আয়নন শক্তি বা আয়োনাইজেশন শক্তি বা আয়নন বিভব বলে ।

S.I তে কিলোজুল/মোল

C.G.S তে কিলো ক্যালোরি/মোল বা ইলেকট্রন ভোল্ট/পরমাণু

  1. আয়োনাইজেশন শক্তি কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে 

উঃ – মৌলের আয়নন শক্তি নির্ভর করে :-

(i) নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক আধানের পরিমান :-

নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক আধান বৃদ্ধিপেলে আয়নন শক্তির মান বৃদ্ধি পায় ।

(ii) পারমাণবিক ব্যাসার্ধ :-

পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয়নন শক্তির মান হ্রাস পায় ।

(iii) ইলেকট্রন বিন্যাসের প্রকৃতি :

পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস যত সুস্থিত হয় আয়নন শক্তির মান তত বৃদ্ধি পায় ।

  1. নিষ্ক্রিয় মৌলের আয়নন শক্তি খুব বেশি হয় কিন্তু ক্ষারধাতুর আয়নন শক্তি খুব কম হয় কেন ?

উঃ – নিষ্ক্রিয় মৌলগুলির সর্ববহিস্থ কক্ষ ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকায় এদের ইলেকট্রন বিন্যাস সুস্থিত । ফলে এদের সর্ববহিস্থ কক্ষ থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারিত করতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয় । তাই নিষ্ক্রিয় মৌলের আয়নন শক্তি খুব বেশি । অন্যদিকে ক্ষারধাতুর সর্ববহিস্থ কক্ষে থাকা একমাত্র ইলেকট্রনটি অপসারিত হলে উৎপন্ন ক্যাটায়ন নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় মৌলের সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে । তাই ক্ষারধাতুর সর্ববহিস্থ কক্ষ থেকে ইলেকট্রন অপসারণ করতে কম শক্তির প্রয়োজন হয় ও আয়নন শক্তির মান খুব কম হয় ।

  1. পর্যায় শ্রেণী বরাবর আয়োনাইজেশন শক্তি কীভাবে পরিবর্তিত হয় 

উঃ – পর্যায় বরাবর পরিবর্তন :-

পর্যায় সারণির কোনো পর্যায়ের বামদিক থেকে ডানদিকে যাওয়া যায় তত আয়োনাইজেশন শক্তি বৃদ্ধি পায় ।

কারণ – পর্যায় বরাবর পরমাণু ক্রমাঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ধনাত্বক আধান এক একক করে বৃদ্ধি পায় । কিন্তু ইলেকট্রন গুলি একই মুখ্য শক্তিস্তরে প্রবেশ করতে থাকে । ফলে নিউক্লিয়াস ও সর্ববহিস্থ কক্ষের ইলেকট্রন গুলির মধ্যে আকর্ষণ বল প্রবলতর হয় । তাই, সর্ববহিস্থ কক্ষ থেকে ইলেকট্রন অপসারিত করতে বেশি পরিমান শক্তির প্রয়োজন হয় ।

শ্রেণী বরাবর পরিবর্তন :-

পর্যায় সারণির কোনো একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি বরাবর উপর দিক থেকে যত নীচের দিকে যাওয়া যায় তত আয়োনাইজেশন শক্তি হ্রাস পায় ।

কারণ- শ্রেণি বরাবর উপর থেকে নীচে নামলে মৌলের পরমাণু ক্রমাঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ধনাত্বক আধান বৃদ্ধি পেলে ও নতুন মুখ্য শক্তিস্তরের সংযোজন হয় ফলে, পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে সর্ববহিস্থ কক্ষের দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে ও বহিস্থ কক্ষে উপস্থিত ইলেকট্রনগুলির ওপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বল হ্রাস পায় । এজন্য সর্ববহিস্থ কক্ষ থেকে ইলেকট্রনের অপসারণ করতে কম শক্তির প্রয়োজন হয় ।

  1. কোন মৌলের আয়োনাইজেশন শক্তি সর্বাধিক এবং কোনটির সর্বনিম্ন   

উঃ – হিলিয়ামের আয়োনাইজেশন শক্তি সর্বাধিক এবং সিজিয়ামের (Cs) আয়োনাইজেশন শক্তি সর্বনিম্ন ।

  1. জারণ বিজারণ ক্ষমতা পর্যায় শ্রেণী বরাবর কীভাবে পরিবর্তন হয় ?

উঃ – পর্যায় বরাবর :-

পর্যায় সারণিতে কোনো পর্যায় বরাবর বামদিক থেকে ডানদিকে গেলে মৌল সমূহের জারণ ক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায় ও বিজারণ ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পায়।

ব্যাখ্যা :-

পর্যায় বরাবর বামদিক থেকে ডানদিকে গেলে মৌলগুলির পরমাণু ক্রমাঙ্ক বৃদ্ধির সাথে সাথে নিউক্লিয়াসের ধনাত্বক আধান বৃদ্ধি পায় এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ক্রমশ হ্রাস পায় । ফলে সর্ববহিস্থ কক্ষের ইলেকট্রন গুলির ওপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায় এবং পরমাণুর ইলেকট্রন বর্জন করার ক্ষমতা বা প্রবণতা ক্রমশ হ্রাস পায় ।

অর্থাৎ বিজারণ ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পায় । অন্যভাবে বলা যায় পর্যায় বরাবর বামদিক থেকে ডানদিকে গেলে মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা তথা জারণ ক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায় ।

শ্রেণি বরাবর জারণ বিজারণ ধর্মের পরিবর্তন :-

পর্যায় সারণিতে কোনো শ্রেণি বরাবর ওপর থেকে যত নীচের দিকে যাওয়া যায় ততই বিজারণ ক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায় কিন্তু জারণ ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পায় ।

ব্যাখ্যা :-

কোনো শ্রেণি বরাবর উপর থেকে নীচের দিকে নামলে মৌলগুলির পরমাণু ক্রমাঙ্ক বৃদ্ধির সাথে সাথে নিউক্লিয়াসের ধনাত্বক আধান বৃদ্ধি পায় । কিন্তু নতুন কক্ষপথ সংযুক্ত হওয়ার ফলে নিউক্লিয়াস থেকে সর্ববহিস্থ কক্ষপথের দূরত্ব তথা পরমাণুর আকার ক্রমশ বাড়াতে থাকে । এর ফলে সর্ববহিস্থ কক্ষপথে থাকা ইলেকট্রনগুলির ওপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ ক্রমশ দুর্বল হয় এবং পরমাণুর ইলেকট্রন বর্জন করার প্রবণতা তথা বিজারণ ক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায় । অন্যভাবে বলা যায় পর্যায় সারণির শ্রেণি বরাবর উপর থেকে নীচের দিকে নামলে মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা তথা জারণ ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পায় ।

  1. মৌলের তড়িৎ ঋণাত্বকতা বলতে কী বোঝায় ? কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে 

উঃ – তড়িৎ ঋণাত্বকতা  :-

যৌগের অনুর মধ্যে সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ থাকা কোনো মৌলের একটি পরমাণু ওই সমযোজী বন্ধনের ইলেকট্রন জোড়কে নিজের নিক্লিয়াসের দিকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা বা প্রবণতাকে ওই মৌলের তড়িৎ ঋণাত্বকতা বলে ।

অথবা

সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ থাকা কোনো মৌলের পরমাণুর ওই বন্ধনী সৃষ্টিকারী ইলেকট্রন জোড়কে নিজের দিকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা বা প্রবণতাকে ওই মৌলের তড়িৎ ঋণাত্বকতা বলে ।

ঋণাত্বকতা নির্ভর করে নিম্নলিখিত বিষয় গুলির ওপর :-

(i) পরমাণুর আকার :-

পরমাণুর আকার যত ছোটো হবে তড়িৎ ঋণাত্বকতা তত বেশি হবে । কারণ পরমাণুর আকার ছোটো হলে পরমাণুর নিউক্লিয়াস ও সর্ববহিস্থ কক্ষের ইলেকট্রনকে আকর্ষণ করার প্রবণতা বাড়ে এবং তড়িৎ ঋণাত্বকতা বাড়ে ।

(ii) নিউক্লিয়াসের আধান :-

পরমাণু মধ্যস্থ কক্ষ সংখ্যা একই থাকলে নিউক্লিয়াসের আধান যত বাড়বে পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্বকতা তত বৃদ্ধি পাবে ।

কারণ – নিউক্লিয়াসের আধান বেশি হলে ইলেকট্রন গুলি বেশি মাত্রায় আকর্ষিত হবে ।

(iii) আয়নের আকার :-

প্রশম পরমাণু অপেক্ষা পরমাণুর ক্যাটায়নের তড়িৎ ঋণাত্বকতা বেশি । আবার প্রশম পরমাণুর তুলনায় পরমাণুর অ্যানায়নের তড়িৎ ঋণাত্বকতা কম হয় ।

  1. পর্যায় শ্রেণী বরাবর তড়িৎ ঋণাত্বকতা কীভাবে পরিবর্তিত হয় 

উঃ – পর্যায় বরাবর তড়িৎ ঋণাত্বকতার পরিবর্তন :-

পর্যায় সারণিতে পর্যায় বরাবর যত বামদিক থেকে ডানদিকে যাওয়া যায় তত পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্বকতার মান ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে ।

কারণ – পর্যায় বরাবর বামদিক থেকে ডানদিকে গেলে পরমাণুর ক্রমাঙ্ক তথা নিউক্লিয়াসের ধনাত্বক আধান বৃদ্ধি পায় এবং পরমাণুর আকার ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে । ফলে, সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ ইলেকট্রন জোড়ের প্রতি নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায় । তাই পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান ক্রমশ বৃদ্ধি পায় ।

যেমন – দ্বিতীয় পর্যায়ে মৌলগুলির তড়িৎ ঋণাত্বকতা বৃদ্ধির ক্রম Li < Be < B < C < N < O < F

শ্রেণি বরাবর তড়িৎ ঋণাত্বকতার পরিবর্তন :-

পর্যায় সারণিতে শ্রেণি বরাবর উপর থেকে নীচে নামলে পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্বকতা ক্রমশ হ্রাস পায় । কারণ – শ্রেণি বরাবর উপর থেকে নীচে গেলে পরমাণু ক্রমাঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ধনাত্বক আধান বৃদ্ধি পেলেও নতুন কক্ষপথ সংযুক্ত হওয়ায় পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পায় । এর ফলে সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ ইলেকট্রন জোড় থেকে নিউক্লিয়াসের দূরত্ব বৃদ্ধি পায় এবং বন্ধন সৃষ্টিকারী ইলেকট্রন জোড়ের প্রতি নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায় । তাই শ্রেণি বরাবর ওপর থেকে নীচের দিকে মৌলগুলির তড়িৎ ঋণাত্বকতা ক্রমশ হ্রাস পায় ।

  1. কোন মৌলের তড়িৎ ঋণাত্বকতা সর্বাধিক এবং কোন মৌলের তড়িৎ ঋণাত্বকতা সর্বনিম্ন 

উঃ – ফ্লুরিন (F) মৌলটির তড়িৎ ঋণাত্বকতা সর্বাধিক এবং সিজিয়াম (Cs) মৌলের তড়িৎ ঋণাত্বকতা সর্বনিম্ন ।

  1. ধাতব অধাতব ধর্ম পর্যায় শ্রেণি বরাবর কীভাবে পরিবর্তিত হয় ?

উঃ – ধাতব ধর্ম :-

কোনো মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বর্জন করে ক্যাটায়নে পরিণত হওয়ার প্রবণতাকে মৌলটির ধাতব ধর্ম বলে । যে মৌলের ইলেকট্রন বর্জনের প্রবণতা যত বেশি, সেটির ধাতব ধর্মতত বেশি ।

পর্যায় বরাবর ধাতব অধাতব ধর্মের পরিবর্তন :-

পর্যায় সারণিতে কোনো পর্যায় বরাবর বামদিক থেকে ডানদিকে গেলে ধাতব ধর্ম ক্রমশ হ্রাস পায় এবং অধাতব ধর্ম ক্রমশ বৃদ্ধি পায় ।

কারণ :- কোনো পর্যায় বরাবর বামদিক থেকে ডানদিকে গেলে মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ক্রমশ কমতে থাকে এবং যোজন কক্ষের ইলেকট্রনের ওপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ ক্রমশ বাড়তে থাকে । ফলে মৌলগুলির ইলেকট্রন মুক্ত করার থেকে গ্রহণ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় ।

শ্রেণি বরাবর ধাতব অধাতব ধর্মের পরিবর্তন :-

পর্যায় সারণিতে কোনো শ্রেণি বরাবর উপর থেকে নীচে নামলে ধাতব ধর্ম ক্রমশ বাড়ে ও অধাতব ধর্ম ক্রমশ কমে ।

কারণ :-

পর্যায় সারণিতে কোনো শ্রেণি বরাবর উপর থেকে যত নীচের নামা হয় তত মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ অর্থাৎ নিউক্লিয়াস থেকে যোজন কক্ষের দূরত্ব বাড়তে থাকে । ফলে মৌল গুলির ইলেকট্রন গ্রহণ করা অপেক্ষা মুক্ত করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় ।

  1. ধরি দুটি মৌলের চিহ্ন A B এবং এদের পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে 7 20 পর্যায় সারণিতে A B এর অবস্থান নির্ণয় কর 

উঃ – A মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস K (2)   L (5)

মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের V B শ্রেণিতে অবস্থান করে ।

B মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস K (2) L (8) M (8) N (2)

মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে চতুর্থ পর্যায়ের II A শ্রেণিতে অবস্থান করে ।

  1. A, B C মৌলগুলির পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে 3, 11, 19
    (a) মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে মৌল তিনটির অবস্থান কোন শ্রেণিতে ?
    (b) এদের মধ্যে কার ধাতব গুন্ সবথেকে বেশি ?
    (c) B এর সঙ্গে ক্লোরিনের বিক্রিয়ায় সমযোজী না তড়িৎযোজী যৌগ উৎপন্ন হয় 

উঃ – (a) A এর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2)  L (1)

B এর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2) L (8) M (1)

C এর ইলেকট্রন বিন্যাস K (2) L (8) M (8) N (1)

A মৌলটি মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে 2 নং পর্যায়ের I A শ্রেণীতে

A মৌলটি আধুনিক পর্যায় সারণিতে 2 নং পর্যায়ের 1 নং শ্রেণীতে

B মৌলটি মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে 3 নং পর্যায়ের I A শ্রেণীতে

B মৌলটি আধুনিক পর্যায় সারণিতে 3 নং পর্যায়ের 1 নং শ্রেণীতে

C মৌলটি মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণিতে 4 নং পর্যায়ের I A শ্রেণীতে

C মৌলটি আধুনিক পর্যায় সারণিতে 4 নং পর্যায়ের 1 নং শ্রেণীতে

(b) প্রদত্ত মৌলগুলির মধ্যে C মৌলের ধাতব গুন্ বেশি ।

(c) B এর সঙ্গে ক্লোরিনের বিক্রিয়ায় তড়িৎযোজী যৌগ উৎপন্ন করে ।

  1. হ্যালোজেন মৌলগুলিকে (Br, F, Cl, I) প্রদত্ত ধর্মগুলির বিচারে সাজাও
    (i) পরমাণুর
    আকারের উর্ধ্বক্রম
    (ii) আয়োনাইজেশন (অয়নন) শক্তি হ্রাসের ক্রম
    (iii) জারণ ক্ষমতা হ্রাসের ক্রম
    (iv) অধাতব ধর্মের নিম্নক্রম
    (v) ক্রমবর্ধমান তড়িৎ ঋণাত্বকতা

উঃ – (i) পরমাণুর আকারের উর্ধ্বক্রম –
F< Cl < Br < I

(ii) আয়োনাইজেশন শক্তি হ্রাসের ক্রম –
F > Cl > Br > I

(iii) জারণ সমতা হ্রাসের ক্রম –
F > Cl > BR > I

(iv) অধাতব ধর্মের নিম্নক্রম –
F > Cl > BR > I

(v) তড়িৎ ঋণাত্বকতা বৃদ্ধির ক্রম –
I < Br < Cl < F

  1. পর্যায় শ্রেণি বরাবর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কীভাবে পরিবর্তিত হয় 

উঃ – পরমাণুর আকার বা ব্যাসার্ধ দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে (1) কক্ষ সংখ্যা (2) নিউক্লীয় আধান ।

পর্যায় বরাবর পরমাণুর আকার বা ব্যাসার্ধের পরিবর্তন :-

কোনো পর্যায়ের বামদিক থেকে যত ডানদিকে যাওয়া যায় পারমাণবিক আকার তথা ব্যাসার্ধ ততই হ্রাস পেতে থাকে ।

(ব্যতিক্রম – নিষ্ক্রিয় গ্যাস)

কারণ – পর্যায় বরাবর পরমাণু ক্রমাঙ্ক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিউক্লিয়াসের আধান এক একক করে বৃদ্ধি পায় । ফলে মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াস সর্ববহিস্থ কক্ষের ইলেকট্রন গুলিকে আরো আকর্ষণ করতে থাকে যা সর্ববহিস্থ কক্ষ ও নিউক্লিয়াসের মধ্যবর্তী দূরত্বকে কমিয়ে দেয় । পরবর্তী নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ক্ষেত্রে পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পায় । কারণ –

পরবর্তী ইলেকট্রন যুক্ত হওয়ার ফলে বিকর্ষণ বল মোট নিউক্লীয় বল অপেক্ষা বেশি হয় ।

শ্রেণি বরাবর পরমাণুর আকার বা ব্যাসার্ধের পরিবর্তন :-

পর্যায় সারণি :-

পর্যায় সারণিতে কোনো শ্রেণির উপর থেকে যত নীচের দিকে যাওয়া যায় পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বা আকার ক্রমশ বাড়তে থাকে । কারণ –

শ্রেণি বরাবর পরমাণু ক্রমাঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ধনাত্বক আধানও বৃদ্ধি পায় যদিও নিউক্লীয় চার্জ বৃদ্ধি পেলে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ হ্রাস পায় । কিন্তু এক্ষেত্রে নতুন কক্ষ বা মুখ্য শক্তি স্তরের সংযোজনের ফলে নিউক্লিয়াস থেকে সর্ববহিস্থ কক্ষের দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে যা সর্ববহিস্থ কক্ষে উপস্থিত ইলেকট্রন গুলির ওপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বল ক্রমশ কমিয়ে দেয় ।

4.2 10 votes
Article Rating
guest
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Prabir
Prabir
2021-05-27 8:47 pm

Hi
This app is very helpful I suggest you try this app plz

Hrithik Rosan
Hrithik Rosan
2021-08-17 8:32 am

Yes, it’s really helpful to students……. Thank you so much….. And we are grateful to you